বাংলাদেশ

পবিত্র ঈদুল আযহা 

শান্তি আর ত্যাগের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে এলো পবিত্র ঈদুল আযহা। সব ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে মিলিত হওয়ার মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় দিন এটি।

 

রাজধানীসহ সারা দেশে ঈদের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে। আর নাড়ীর টানে ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ছেড়েছেন রেকর্ডসংখ্যক মানুষ। ফলে রাজধানী এখন নতুন রূপে প্রায় ফাঁকা। এছাড়া মঙ্গলবার থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনদিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।

 

মহান আল্লাহ’র উদ্দেশে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে দেশের মুসলিম সম্প্রদায় তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উদযাপন করবেন। আর ঘরে ঘরে ত্যাগের আনন্দে মহিমান্বিত হবে মন। ঈদুল আযহায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ মহান আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী পশু কোরবানি করেন।

 

উল্লেখ্য, মুসলমানদের এই ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। আল্লাহতাআলা হযরত ইব্রাহিমকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। স্নেহের পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হযরত ইব্রাহিম’র (আ.) সবচেয়ে প্রিয়। আপন পুত্রকে কোরবানি দেওয়া এক অগ্নিপরীক্ষা। কিন্তু আল্লাহ’র নির্দেশ পেয়ে হযরত ইব্রাহিম (আ.) বিনা দ্বিধায় নিজ পুত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আর মহান আল্লাহ’র নির্দেশে তাঁর ছুরির নিচে প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলের (আ.) স্থলে কোরবানি হয়ে যায় একটি দুম্বা। প্রতীকী এই ঘটনার অন্তর্নিহিত বাণী স্রষ্টার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকার।

 

পবিত্র ঈদুল আযহার উদ্দেশ্য স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা। আর পশু কোরবানি করা হয় প্রতীকী অর্থে। ঈদুল আযহা শিক্ষা দেয় কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দাকেই কোরবানি করার। এবং হালাল অর্থে কেনা পশু কোরবানির মাধ্যমেই তা সম্পন্ন হয়।

 

কিন্তু পরিতাপের বিষয়, কোরবানির এই মর্মবাণী আমাদের সব সময় স্মরণে থাকে না। বরং ত্যাগের সাধনার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ভোগবিলাস, অপচয়। পবিত্র ঈদুল আযহা’য় কোরবানির মধ্য দিয়ে আল্লাহ’র প্রতি ব্যক্তিগত আনুগত্য প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক কিছু কর্তব্য পালনের তাগিদও বড় হয়ে দেখা দেয়।

অন্যদিকে, নামাজ শেষে অনেকেই যাবেন কবরস্থানে স্বজনের কবর জিয়ারত করতে। আনন্দের দিনে অশ্রুসিক্ত হয়ে চিরকালের জন্য চলে যাওয়া স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আল্লাহ’র দরবারে মোনাজাত করবেন তারা।

নামাজ শেষে আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি এই ঈদের প্রধান কর্তব্য। পরে আরও দুই দিন, অর্থাৎ ১১ ও ১২ জিলহজেও পশু কোরবানি করার বিধান আছে। ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত হবে হাই কোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে আটটায়।

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

ফাই//মাও

Comments are closed.

LIVE

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়
মশা তাড়াতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা যায়
গ্রিন টির ভালো-মন্দ
পাহাড়ের ভাষা, সমতলের ভাষা