বাংলাদেশ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস

বাবা, পরম নির্ভরতার প্রতীক। তার ছায়াতলে বেড়ে ওঠে সন্তানের সারা জীবন। দেশে, জাতি কিংবা ভাষা ভেদে হয়তো শব্দ বদলায় আর স্থান ভেদে বদলায় উচ্চারণও (পিতা, বাবা, জনক, বাপ, পিতৃ কিংবা father, dad, daddy, papa, pa)। কিন্তু বদলায় না রক্তের টান।

 

 

আজ রোববার বিশ্ব ব্যপী পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার এই দিবসটি পালন করা হয়। সে হিসেবে আজ ১৬ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি।

 

বাবা বা পিতার প্রতি সন্তানের সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে এই দিনটি। এদিনে সন্তান তার জন্মদাতাকে নানা উপহার দিয়ে থাকে। আর যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো সবার অলক্ষ্যে খুঁজে ফেরে বাবার স্মৃতি।

 

 

প্রতিটি ধর্মের পিতার প্রতি রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসা কথা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘পিতা-মাতা জান্নাতের মাঝের দরজা। যদি চাও, দরজাটি নষ্ট করে ফেলতে পারো, নতুবা তা রক্ষা করতে পারো। (তিরমিযী)

 

সনাতন ধর্মেও বলছে, পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম পিতাহী পরমং তপঃ পিতরী প্রিতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্ব দেবতা। পিতাই ধর্ম, পিতাই স্বর্গ, পিতা পরম তপস্যার।

 

 

সারা জীবন হাজারো কষ্ট সয়ে তিলে তিলে সন্তানকে বড় করেছেন যিনি, তিনি বাবা। তাকে ঘিরেই এদিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। তবে বাবা কি শুধুই একটি বিশেষ দিনের জন্য! এরকম বিতর্ক থাকলেও এই বিশেষ দিনটিতে একটি লাল গোলাপ, একটি কার্ড অথবা ‘মাই লাভ ফর ড্যাড’ লেখা মগ নিয়ে শুভেচ্ছা জানালে বাবা তাতে খুশিই হন।

 

ছোট-বড়, অখ্যাত-বিখ্যাত সকলের কাছেই বাবা পরম পাওয়া। আর বাবার চাওয়া-পাওয়া বলতে সন্তানের ভালো থাকাই বড় কথা।

 

 

জানা যায়, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে।

 

যদিও তিনি ১৯০৯ সালে, ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে, সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন।

 

তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

 

১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পিতৃ দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণার বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দিনটিকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন।

 

বাবা দিবসে শ্রদ্ধা আর ভালবাসা পূর্ণতা পাক, দৃঢ় হোক পরিবারের বন্ধন। পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

 

ফই/জার/ফই
LIVE
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!
বিশ্বের কয়েকটি নান্দনিক সড়ক