বাংলাদেশ, শীর্ষ খবর

আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজের ভবিষ্যৎ কোন পথে?

রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মেয়র আনিসুল হক নিয়েছিলেন মহাপরিকল্পনা। এসব পদক্ষেপের কারণে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে নগরবাসী। শুধু পরিকল্পনাতেই তিনি থেমে ছিলেন না, বাস্তবায়নে ছিলেন আরও বেশি তৎপর।

কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় আনিসুল হকের হঠাৎ মৃত্যুতে তার অসমাপ্ত কাজগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দেয় সংশয়।

কেমন আছে আনিসুল হকের স্বপ্নের ঢাকা?

রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে মেয়র আনিসুল হক নিয়েছিলেন মহাপরিকল্পনা। শুধু পরিকল্পনাতেই তিনি থেমে ছিলেন না, বাস্তবায়নে ছিলেন আরও বেশি তৎপর। কিন্তু দায়িত্ব নেয়ার মাত্র দুই বছরের মাথায় হঠাৎ মৃত্যুতে, তার অসমাপ্ত কাজগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দেয় সংশয়।

Posted by Nagorik – নাগরিক on Saturday, November 30, 2019

স্বপ্ন দেখতেন আর সেই স্বপ্নের পথে মানুষকে যুক্ত করতেন তিনি। ২০১৫ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর, বিভিন্ন সময় নিজের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন মেয়র আনিসুল হক। দ্রুততার সঙ্গে করেন বেশকিছু কাজও। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে কিছু কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। আজ তিনি নেই, তাঁর অনুপস্থিতিতে কেমন আছে তাঁর স্বপ্নের ঢাকা?

গণপরিবহন: আনিসুল হকের স্বপ্নের প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্মার্ট ঢাকা ছিল আলোচিত। সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে চালু করেছিলেন ঢাকা চাকা।

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, চার হাজার বাস নামানোর। কিন্তু মেয়রের অনুপস্থিতিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

ইউলুপ: যানজট নিরসনে মহাখালী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ইউলুপ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন আনিসুল হক। এর মধ্যে গত ২ বছরে মাত্র তিনটি ইউলুপ নির্মাণ হলেও থেমে আছে বাকি প্রকল্পের কাজ।

খেলার মাঠ: ডিএনসিসি এলাকায় যেসব মাঠ ছিলো, তার বেশিরভাগ মাঠে সব শ্রেণির শিশু-কিশোরেরা খেলতে পারতো না। আনিসুল হক চেয়েছিলেন খেলার মাঠগুলো নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করতে। কাজও শুরু হয়েছিলো। অথচ এখন তা ঝিমিয়ে পড়েছে।

সবুজ ঢাকা: কংক্রিটের জঞ্জালে ভরা ঢাকা। গাছ লাগানোর সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই মেয়র আনিস উদ্যোগ নিয়েছিলেন রাজধানীর পথের ধারে, খালি জায়গায় এমনকি প্রত্যেক বাড়ির ছাদে গাছ লাগানোর। এ জন্য নগরবাসীকে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেন সবুজ ঢাকা প্রকল্পের কাজ। থেমে গেছে সেই কাজও।

তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড: তেজগাঁও সাতরাস্তা একময় পুরোটাই ছিলো ট্রাকস্ট্যান্ড। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেয়র আনিসুল হক উচ্ছেদ করেছিলেন সেটি। এখন সেটি আনিসুল হক সড়ক।

ফুটপাত: ঢাকা উত্তরের ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে কঠোর ছিলেন আনিসুল হক। ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ চালিয়েছেন বিভিন্ন পয়েন্টে। দীর্ঘদিনের দখলে থাকা মোনায়েম খার বাড়ি এমনকি দূতাবাস এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতেও পিছপা হননি তিনি। দখলমুক্ত করে সেসব করেছেন পথচারীদের চলাচলের উপযোগী।

গণ শৌচাগার: আধুনিক ঢাকা গড়ার অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের জন্য নির্মাণ করেছেন আধুনিক গণ শৌচাগার।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও আধুনিকায়ন করেছেন আনিসুল হক। গড়ে তুলেছেন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টার।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার সমাধান যাত্রায় দেয়াল লিখন, পোস্টার অপসারণ, অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড অপসারণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম। একসময়ের যানজটে ভরা গাবতলী বাস টার্মিনাল দেখলেই তার প্রমাণ মেলে। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য আজো নগরবাসীর হৃদয়জুড়ে আছেন তিনি

চলে যাওয়া মানে প্রস্থান নয়, চলে যাওয়া মানে নয় বন্ধন ছিন্ন করা। এই নগর আর নাগরিকের সাথে আনিসুল হকের যে বন্ধন তা ছিন্ন হবার নয়। তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন সকলের হৃদয়ে, তার কাজের মধ্য দিয়ে।

সাইফুল শাহীন/ফই

LIVE
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!