ফিচার, ভ্রমণ , , , , ,

ইউরোপের ফুসফুস বেলারুশ

ফারহানা মৌলি

পোল্যান্ড, ইউক্রেন, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং রাশিয়ার মাঝখানের দেশটি হচ্ছে বেলারুশ। চোখ ধাঁধানো অরণ্যরাজি, প্রাণিকুল, আর সুস্বাদু আলুর প্যানকেকের সন্ধানে অনেকের ভ্রমণতালিকায় শীর্ষে থাকে এই দেশ।

১. ‘ইউরোপের ফুসফুস’ হিসাবে পরিচিত, বেলারুশ। দেশটির ৪০ শতাংশ জায়গা বনাঞ্চল। এখানে সবুজের বাহার ইউরোপের যেকোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। দেশটির রাজধানী মিনস্কেও প্রায় প্রতিটি কমিউনিটিতে অসংখ্য পার্কের দেখা মেলে। বেলারুশিয়ান পতাকার সবুজ স্ট্রিপটি এর বনভূমির প্রতীক।

২.এখানকার রাস্তায় বের হলে আপনি খুব কম বিজ্ঞাপন দেখবেন। আর যে বিজ্ঞাপনগুলো দেখা যায় সেগুলোতে দেখা মিলবে দেশপ্রেম, পারিবারিক আদর্শ, কঠোর পরিশ্রম, ট্রাফিক আইন মানার সঠিক নিয়মসহ আরো কিছু সামাজিক বিষয়াদি যা জীবনকে সুন্দর করতে সাহায্য করে।

৩. বেলারুশিয়ানরা সবজি খেতে খুব পছন্দ করেন। আলু তাদের সবচেয়ে প্রিয় খাবার। এই আলু দিয়েই তারা প্যানকেক, ডাম্পলিংস থেকে শুরু করে ৩০০ ধরণের খাবার তৈরি করতে পারে।

৪. বেলারুশ ভ্রমণ করার সময় পর্যটকরা প্রথম যে কথাটি বলেন তা হল এই দেশটি সবুজ, পরিষ্কার, এবং নিরাপদ। রাশিয়া ও ইউক্রেনের তুলনার এখানকার রাস্তাগুলো বেশ আকর্ষনীয়।

৫. বিশ্বের বৃহত্তম ডাম্প ট্রাক বেলারুশে তৈরি হয়। BelAZ-75710 মডেলের এই ট্রাকের ওজন ৩৬০ টন, চাকার উচ্চতা ৪ মিটার। যদি কেউ এই ধরণের একটি ট্রাক কিনতে চান তবে ব্যয় করতে হবে প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার!

৬. এই দেশের স্কুলে পড়ুয়া ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন তারা বড় হয়ে কি হতে চায়, তাদের বেশিরভাগই উত্তরে বলে, তারা প্রোগ্রামার হতে চায়। এই পেশা বেলারুশে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। প্রোগ্রামারদের বেতন সমস্ত প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় বেশি। বেলারুশকে বলা হয় পূর্ব ইউরোপের “সিলিকন ভ্যালি”। প্রায় ১০ বছর আগে, এখানে হাই টেক পার্ক তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় ১৭০ টি সংস্থায় কাজ করছেন ২৭ হাজার আইটি বিশেষজ্ঞ।

৭. বেলারুশকে বলা হয় পূর্ব ইউরোপের লাস ভেগাস। রাশিয়ায় যখন জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তখন বেলারুশে প্রচুর ক্যাসিনো খোলা হয়েছিল, এ কারণেই অনেক রাশিয়ান এখানে আসেন।

৮. বেলারুশের  বেকারত্বের হার ১ শতাংশের কম। তাই গৃহহীন এবং দরিদ্র্য মানুষ কম দেখা যায় এখানে।

৯. বেলারুশিয়ান ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে বলা হয় ‘‘The Diamond of Knowledge’. যদিও লাইব্রেরি ভবনের কাঠামোটি পৃথিবীর অন্যতম কুৎসিত  ভবন হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

১০. বলা হয়ে থাকে, প্রতি বছরে সারা ইউরোপের মধ্যে বেলারুশ থেকে সবচেয়ে বেশি গুপ্তধনের সন্ধান মেলে। অতীতে এখানকার ভূমিতে অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ লেগে থাকতো। ধারণা করা হয়, সে সময়  রাজারা বা সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকেরা তাদের ধনরত্ন মাটির নিচে লুকিয়ে রাখতেন। সে কারণেই হয়তো পায়ের তলার মাটি খুঁড়লেই এখানে গুপ্তধনের সন্ধান মেলে!

LIVE
Play
গাণিতিকভাবে সবচেয়ে নিখুঁত সুন্দরী বেলা হাদিদ!
স্পেনের জানা-অজানা
টিকটকের মধুবালা
ফোর্বসের তালিকায় ২০১৯ সালে ভারতের শীর্ষ ধনী