ফিচার, ফিচার ও

ঈদের ইতিহাস

রাসূলুল্লাহ সা. মক্কায় ১৩ বছর থাকাকালীন সিয়াম ও ঈদের বিধান ছিল না। অতঃপর মক্কার কাফিরদের অবর্ণনীয় নির্যাতনে আল্লাহর নির্দেশে তিনি মদীনায় হিজরত করেন।

মদীনায় মুশরিকরা বছরে ২টি দিন পালন করত। ইচ্ছামত খেল তামাশা, গানবাজনা, রঙ তামাশা ও লাগামহীন উচ্ছৃঙ্খলতায় কাটাত।

আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের এ ২ দিনের পরিবর্তে মুসলিমদের ২টি ঈদের ব্যবস্থা করে দেন। আনাস রা. বলেন, ‘প্রতি বছর মুশরিকদের জন্য ২টি দিন ছিল। যেদিন তারা খেল তামাশা করত। অতঃপর নাবী সা. যখন মদীনায় আসেন তখন তিনি বলেন, তোমাদের ২টি দিন ছিল, যেদিনে তোমরা খেল তামাশা করতে। তাই আল্লাহ তাআলা ঐ ২টি উৎসবকে তোমাদের খাতিরে উত্তম জিনিস দ্বারা বদলে দিয়েছেন। তাহল, ইয়াওমুল ফিতর ও ইয়াওমুল আযহা।’ (নাসায়ী, ১/১৭৭, আবু দাউদ, ১/১৬১)

ঈদ অর্থ যা বার বার ফিরে আসে। প্রতি বছর ইয়াওমুল ফিতর ও ইয়াওমুল আযহা ফিরে আসে এজন্য ইসলামী শরীয়াতে ঐ ২টি ঈদ নামে বিশেষিত করা হয়েছে।

ঈদুল ফিতরের দিন মহান আল্লাহ কী করেন?

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের দিন আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাদের সামনে গর্ব করতে থাকেন। অতঃপর বলেন, হে আমার ফিরিশতাগণ! মজদুরের পুরস্কার কী, যে তার কাজ পুরোপুরি করেছে? তখন ফিরিশতাগণ বলেন, হে আমাদের রব! তার পুরস্কার তাকে পুরোপুরি এর প্রতিদান দেয়া।’

এবার আল্লাহ বলেন, ‘হে আমার ফিরিশতাগণ! আমার দাস ও দাসীরা তাদের ওপর চাপান কাজ করেছে।’

তারপর উচ্চৈঃস্বরে তাকবীর ধ্বনি দিতে দিতে দুআর জন্য ঈদগাহে রওয়ানা হয়েছে।

আমার সম্মান ও গাম্ভীর্যের কসম! এবং আমার উদারতা ও উচ্চমর্যাদার কসম! আমি তাদের ডাকে অবশ্য অবশ্যই সাড়া দেব। অতঃপর তিনি বলেন, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের খারাপগুলো ভাল দ্বারা বদলে দিলাম।

রাসূলুল্লাহ সা. বলেন, তাই তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরতে থাকে। (বায়হাকী, মিশকাত, ১৮৬)

ঈদের দিন করণীয় –

দুই ঈদের দিন গোসল করা।

সুন্দর, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাপড় পরা। নতুন কাপড় থাকলে নতুন কাপড় পরা।

খুশবু ব্যবহার করা।

ঈদুল ফিতরের দিন বেজোড় খেজুর খেয়ে ঈদগাহে যাওয়া। ঈদুল আযহার দিন সলাত পড়ে এসে খাওয়া।

ঈদগাহে হেঁটে যাওয়া।

এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া আরেক রাস্তা দিয়ে আসা।

ঘর থেকে তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া। তাকবীর হল, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

ঈদগাহ থেকে ফিরে এসে বাসায় ২ রাকাত সলাত পড়া। এবার করোনার জন্য বাসায় ঈদের সলাত বা নামায আদায় করতে পারেন। ২ রাকাত সলাত আদায় করবেন অতিরিক্ত তাকবীরসহ। খুতবা লাগবে না।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, আলেম ও প্রভাষক, মাসুম বিল্লাহ বিন রেজা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়
মশা তাড়াতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা যায়
গ্রিন টির ভালো-মন্দ
পাহাড়ের ভাষা, সমতলের ভাষা