লাইফস্টাইল

উচ্চ আদ্রতার স্বাস্থ্যঝুঁকি

ফারহানা মৌলি

গত কয়েকদিনে ঢাকা শহরের তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু বাতাসে আদ্রতার পরিমান ৬০% থেকে ৭৫% শতাংশের মত হওয়ায় এই ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনুভূত হচ্ছে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মত। একারণেই আমরা ঘামছি বেশি, ক্লান্ত হয়ে পড়ছি খুব দ্রুত, কোন কাজে মন দিতে পারছি না।  সব মিলিয়ে এই ভ্যাপসা গরমে জনজীবন হয়ে পড়ছে অতিষ্ঠ।

 

বাতাসে আর্দ্রতা বেশি মানেই হচ্ছে জলীয়বাষ্পের পরিমান বেশি থাকা। আদ্রতা বেশি থাকলে  চারপাশে ভ্যাপসা গরম হয়ে যায়, বাতাসের মধ্যকার এই  জলীয়বাষ্প আমাদের শরীরকে গরম এবং চিটচিটে করে ফেলে। এসব কারণেই আমাদের শরীর থেকে খুব বেশি ঘাম ঝরতে থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতি বৃদ্ধি পায়, বেড়ে যায় রক্তচাপ। অত্যধিক ঘামের ফলে শরীরকে সঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানি ও লবণের ঘাটতি তৈরী হয় যা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

 

উচ্চ আর্দ্রতার প্রভাব বাড়লেও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্ম কিন্তু থেমে থাকে না। এই সময়গুলোতে নিজেকে সুস্থ  রাখাটা ভীষণ জরুরি। উচ্চ আদ্রতার স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো সম্পর্কে এখন কিছু তথ্য আপনাদের জানাবো।

 

ঠান্ডা ও শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ: উচ্চ আদ্রতাযুক্ত স্থানে যারা বাস করেন তাদের সাধারণত ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা  ভাইরাস এবং  শ্বাসযন্ত্র জনিত রোগগুলো বেশি হয়।

 

চর্মরোগ ও ফাংগাসের সংক্রমণ: আদ্র পরিবেশে চর্মরোগ বেশি হয়। ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে চামড়ার রং বিবর্ণ দেখায়।

 

এলার্জি ও হাঁপানি: সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ আদ্রতার মধ্যে বসবাসকারী বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে, এলার্জি এবং হাঁপানির  মত শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।

 

ডিহাইড্রেশন: উচ্চ আদ্রতায় আমাদের শরীর বেশি ঘামে, এর ফলে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি বেরিয়ে যায়। একারণে এই অবস্থায় শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা তৈরী হয়। এটি অনেকক্ষেত্রে হার্ট এটাকের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

 

ক্লান্তি এবং অবসন্নতা: এসময় একধরণের ভ্যাপসা গরমের কারণে শরীর কর্মক্ষমতা খুব দ্রুত হারায় ফলে একটু পরপর ক্লান্ত লাগে। কোন কাজ করতে ভাল লাগে না।

 

হিট স্ট্রোক: যাদের দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকা পড়ে বা রোদে ঘোরাঘুরি করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে অত্যাধিক আদ্রতায় অনেক সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে  উঠে যায়, মাথা ঝিমঝিম করে এবং এতে আক্রান্ত ব্যক্তির চেতনা আস্তে আস্তে লোপ পেতে থাকে। এই অবস্থাকে হিট স্ট্রোক বলা হয়।

 

অজ্ঞান হয়ে যাওয়া: অত্যাধিক তাপ এবং আদ্রতায় আমাদের শরীরে পানিশূন্যতা তৈরী হয়। এতে শরীরে ক্লান্তি এবং দুর্বলতা বাড়ে, মাথা ঝিমঝিম করে। শরীরের পানি ও লবণের ঘাটতি বেশি হলে অনেকে মাথা ঘুরে পড়েন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে  অজ্ঞানও হয়ে যান।

 

সবশেষে এটাই বলব যে, বাইরের আদ্রতাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে আমাদের কোন হাত নেই, তাই এসময় যতটা সম্ভব তাপ এড়িয়ে চলুন এবং বেশি বেশি পানি পান করুন।

 

//মাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়
মশা তাড়াতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা যায়
গ্রিন টির ভালো-মন্দ
পাহাড়ের ভাষা, সমতলের ভাষা