১৮/০২/২০২৬, ১৫:৪৫ অপরাহ্ণ
32 C
Dhaka
১৮/০২/২০২৬, ১৫:৪৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

উত্তাল সাগর সাঁতরে স্পেনে মরক্কোর নারী, সঙ্গে ১০ বছর বয়সী সন্তানও

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর এক সাহসী নারী তার ১০ বছর বয়সী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সাঁতরে স্পেনের ছিটমহল সেউটায় পৌঁছেছেন। গত ১২ অক্টোবর মরক্কোর ফনিদেক শহর থেকে সাগরে ঝাঁপ দেন মা ও ছেলে, এরপর কয়েক ঘণ্টা ধরে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তারা অবশেষে সেউটার তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

স্পেনের স্থানীয় মিডিয়া El Faro de Ceuta জানিয়েছে, প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক শিশু একটি ভাসমান বোর্ড আঁকড়ে ধরে আছে, তার পাশে সাঁতার কাটছেন মা। দুজনেই ছিলেন ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত। তাদের পরনে ছিল শুধু ডাইভিং স্যুট এবং পায়ে ফিনস।

তীরে উপস্থিত লোকজন বিস্ময়ভরা চোখে এ দৃশ্য দেখেন। পরবর্তীকালে স্পেনের সিভিল গার্ড সদস্যরা মা ও সন্তানকে উদ্ধার করেন। বালুচরে উঠেই তাদের মুখে ছিল ভয় ও গভীর ক্লান্তির ছাপ।

বর্তমানে মরক্কোয় বেকারত্বের হার ১৩.৩ শতাংশ এবং তরুণদের মধ্যে তা প্রায় ৩৬ শতাংশ। এই বাস্তবতায় ইউরোপমুখী হচ্ছেন বহু মরক্কান। সাম্প্রতিক তরুণ আন্দোলন ও বিক্ষোভ— বিশেষ করে ‘জেন জি ২১২’ নামের একটি সংগঠনের নেতৃত্বে— দেশটির আর্থ-সামাজিক সংকট ও হতাশার চিত্রকে আরও উন্মোচিত করেছে।

উদ্ধারের পর মা ও ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে তাদের রাখা হয় সেউটার শরণার্থী গ্রহণকেন্দ্রে।

সেউটার সঙ্গে মরক্কোর সীমান্তে সম্প্রতি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেকেই এখন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁতারের পথ বেছে নিচ্ছেন। যদিও দূরত্ব তুলনামূলকভাবে কম, তবে পথটি ভয়ানক বিপদসংকুল। সমুদ্রের স্রোত তীব্র এবং সৈকত পাথুরে হওয়ায় এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

সামাজিক মাধ্যমে ওই নারী জানান, “এই পথটা খুব কঠিন। ভালো সাঁতারু না হলে পার হওয়া সম্ভব নয়। আমি প্রচণ্ড কষ্ট পেয়েছি। স্রোত আমাকে পাথরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। যারা নিজেরা এটি করেননি, তারা বুঝতে পারবেন না এই অভিজ্ঞতা কতটা ভয়াবহ।”

চলতি বছরেই অন্তত ৩০ জন মরক্কোর নাগরিক সাঁতার কেটে সেউটায় পৌঁছাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এই ঘটনাগুলোর পেছনে মরক্কোর গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে, কারণ চাকরির সুযোগ সীমিত। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ, যেখানে ‘জেন জি ২১২’-এর আহ্বানে শত শত তরুণ রাস্তায় নেমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রেক্ষাপটে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে। শুধু পুরুষ নয়, এখন বিপজ্জনক সাঁতারের পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক নারীও।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান, ধ্বংস মাদকবাহী সাবমেরিন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন