আলোচিত, স্মরণ

একজন মমতাজউদ্দীন আহমেদ

নাট্য জগতে যাদের একটু হলেও আনাগোনা আছে, বিশেষ করে আমাদের দেশের নাট্যকলায়, তারা একবাক্যেই এই গুণী মানুষটিকে চিনতে পারবেন। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের দিনগুলিতে যারা অসামান্য অবদান রেখেছেন, তাদের একজন মমতাজউদ্দীন  আহমেদ।

 

১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের মালদহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কর্মজীবনের বেশ কিছুটা সময় তিনি পার করেছেন বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করে। নিজে ছিলেন একজন নাট্যকার, নাট্য নির্দেশক, অভিনেতা, কলামিস্ট এবং ভাষাসৈনিক। তবে এসব পরিচয়কে ছাপিয়ে থিয়েটার তাঁকে নিয়ে গেছে অসামান্য উচ্চতায়।

 

সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মীর হবার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। খুব কাছ থেকেই নিজের নাড়িটাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হতে দেখেছেন আবার জোড়াও লাগতে দেখেছেন তাই হয়তো স্বাধীনতা পরবর্তী দিনগুলিতে নাট্যআন্দোলনে তাঁর এতো ধারালো উপস্থিতি। এক অঙ্কের নাটক লেখায় ছিল তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা। প্রগতিশীল রাজনীতির কারণে কারাবরণও করতে হয়েছিল তাঁকে।

 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-  বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত, বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত, প্রসঙ্গ বাংলাদেশ, প্রসঙ্গ বঙ্গবন্ধু (গবেষণা ও প্রবন্ধ)। নাটকের মধ্যে রয়েছে- নাট্যত্রয়ী, হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার, স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা (১৯৭১), কি চাহ শঙ্খ চিল (১৯৮৫), প্রেম বিবাহ সুটকেশ, জমিদার দর্পণ, রাজা অনুস্বরের পালা, ক্ষত বিক্ষত, রঙ্গপঞ্চাদশ, বকুল পুরের স্বাধীনতা, সাত ঘাটের কানাকড়ি, রাক্ষসী ইত্যাদি।

 

গদ্য রচনাসমগ্রের মধ্যে রয়েছে- চার্লি চ্যাপেলিন-ভাঁড় নয় ভব ঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, হৃদয় ছুয়ে আছে, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ, ভালবাসিলেই, সজল তোমর ঠিকানা (উপন্যাস), এক যে জোড়া, এক যে মধুমতি (উপন্যাস), অন্ধকার নয় আলোর দিকে ইত্যাদি।

 

নাট্যকার হিসেবে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও শিল্প ও সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৯৭), নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কার।

 

তিনি বিশ্বাস করতেন, আধুনিক নাটকে দুঃসাহসী না হয়ে উপায় নেই. তাইতো তাঁকে বাংলাদেশের এক্সপেরিমেন্টাল নাট্যজন বলাই শ্রেয়।

 

শেষ করবো তাঁরই লেখা পঙতি দিয়ে- “আমার কাছে জীবনের সততা ও নাটকের সত্যের মধ্যে কোন বিবাদ নেই, কলহ নেই। নাটকের সত্য বার বার আমাকে বলে, সত্য যে কঠিন, কঠিনের ভালবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।” এরকমই এক মহা সত্যকে ভালোবেসে তিনি চলে গেছেন দূর দেশে গত ২ জুন। রেখে গেছেন তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি, যা বাঙালি চর্চা করবে বহুকাল।

তাস//মাও
LIVE
Play
ভারত সরকার কি মিথ্যা বলছে?
ভারতকে কি হারাতে পারবে নিউজিল্যান্ড?
কতটা কঠিন হবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল?
রাইড শেয়ারিংয়ের অর্থনীতি