ফিচার, ফিচার ও

এন্ড্রু কিশোরের সেরা ৫ গান

উপমহাদেশের কিংবদন্তি ও দেশের চলচ্চিত্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের গানের সংখ্যা প্রচুর। তার হৃদয়ছোঁয়া কিছু গান যুগ যুগ ধরে আজও অমলিন আবেদন সৃষ্টি করে।

জনপ্রিয় গানগুলো সমানভাবেই তাকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখবে। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ দিয়ে তার গানের রেলগাড়ির যাত্রা। যে গাড়িটি থেমেছে সোমবার।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় শুন্য করে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন এন্ড্রু কিশোর।

৩০ বছরের বাংলা গানের কিংবদন্তি এই শিল্পী পুরো ক্যারিয়ারে বিখ্যাত সব গান উপহার দিয়েছেন। এন্ড্রু কিশোরের সেরা ৫ টি গান।

আমার সারা দেহ খেও গো মাটি:

আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, এই চোখ দুটি মাটি খেও না, আমি মরে গেলেও তারে দেখার স্বাদ মিটবে না গো মিটবে না’– অসাধারণ এমন জনপ্রিয় গানে শিল্পী মুকুটহীন প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর।

প্রয়াত সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের কথা ও সুরে ‘নয়নের আলো’ চলচ্চিত্রের গান এটি। ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি পরিচালনা করেন বেলাল আহমেদ। অভিনয় করেছেন জাফর ইকবাল, কাজরী।

ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে:

দরাজ কণ্ঠে গেয়েছিলেন ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইব না আর বেশি দিন তোদের মাজারে’ এ গানে চোখে পানি আসেনি বা আবেগ তাড়িত হননি এমন মানুষ খুব কমই আছে।

মনিরুজ্জামান মনিরের লেখা ও সংগীত পরিচালক আলম খানের সুরে গানটি গেয়ে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে গেছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর।

হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস:

হায়রে মানুষ, রঙ্গীন ফানুস দম ফুরাইলেই ঠুস তবুতো ভাই কারোরই নাই একটুখানি হুশ হায়রে মানুষ, রঙ্গীন ফানুস রঙ্গীন ফানুস, হায়রে মানুষ।

সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হকের কথা ও আলম খানের সুরে ‘বড় ভালো লোক ছিল’ চলচ্চিত্রের এ গানে কণ্ঠ দিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে শ্রোতামহলে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর।

মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের পরিচালনায় ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতে আনোয়ার হোসেন, প্রবীর মিত্র অভিনয় করেছেন। এ গান এক সময়ে মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে।

সবাই তো ভালোবাসা চায়:

সবাই তো ভালবাসা চায় কেউ পায় কেউবা হারায় তাতে প্রেমিকের কী আসে যায়. সবাই তো ভালবাসা চায় কতকাল কত সাধনায় তারে একদিন কাছে পাওয়া যায়। এমন অনেক গান নিয়ে গত শতকের ৮০ দশক থেকে শুরু করে টানা দুই দশক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে গানের জগতে ছিল তার রাজত্ব।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কথায়, আলম খানের সুরে ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সারেন্ডার’ চলচ্চিত্রের এ গানে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে যৌথভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেন জহিরুল হক।

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প:

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প। যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও যা কিছু বলার যাও বলে যাও পাবে না সময় আর হয়ত। ঐ ঘাসের কাফনেতে দেখ আকাশ আছে শুয়ে ঐ বরফ গলা নদী নামে পাহাড় যে বেয়ে নীড়ে পাখি ফিরে যাবে সূর্যটা গেলে অস্ত।

১৯৮৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভেজা চোখ’ চলচ্চিত্রে মনিরুজ্জামান মনিরের কথা ও আলম খানের সুরে এ গানে কণ্ঠ দেন এন্ড্রু কিশোর। শিবলী সাদিক পরিচালিত এ চলচ্চিত্রের মূখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পা।

কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর পুরো ক্যারিয়ারে মানুষের ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। মোট ৮ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন ৫ বার। এছাড়াও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সবেচয়ে বড় অর্জন কোটি মানুষের ভালোবাসা।

ফই//

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

অনলাইন আড্ডায় রুবানা হক
উচ্চ রক্তচাপে করণীয়
দ্রুত চুল লম্বা ও ঘন করার সহজ উপায়
পৌষসংক্রান্তি থেকে ‘সাকরাইন’