খেলা

কতটা কঠিন হবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল?

রাহীদ রনি

সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন বলেছেন, সেমিফাইনাল খেলতে হলে শক্তিশালী দলকে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। যথার্থই বলেছেন এক সময়ের সফল অধিনায়ক। বিশ্বকাপ বড় মঞ্চ, সেখানে কয়েকটি দল খেলে। বাছাইপর্বে ভালো খেলে তবে টিকেট মেলে বিশ্বকাপের। এখানে তাই ছোট বা বড় বলে কোনো দল নেই। সবাই সমান, নির্দিষ্ট দিনে যে কোনো দলই ঘটাতে পারে যে কোনো কিছু।

 

শ্রীলঙ্কার সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় আফসোস ঝরেছে বাংলাদেশের হেড কোচ স্টিভ রোডসের কণ্ঠেও। সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ ঝেরে রোডস বলেন, চাঁদে মানুষ যাচ্ছে আর বিশ্বকাপের ম্যাচের কোনো রিজার্ভ ডে নেই। সত্যিই তো, বিশ্বকাপ বলে কথা। সেটাও হচ্ছে ক্রিকেটের জন্মভূমিতে। ক্রিকেট ভক্তদের এটা মানা কঠিন। আর বাংলাদেশের ভক্তদের তো গা জ্বলছে।

 

এবার আসা যাক টু দ্য পয়েন্টে, তাহলে কি বিশ্বকাপের সেমিতে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ? সহজ হিসাব বাকি আছে পাঁচ ম্যাচ আর সেমিতে খেলতে হলে মাশরাফীদের জিততে হবে চারটি ম্যাচ। কতটা কঠিন সেই সমীকরণ তাই এবার মেলানো যাক।

 

বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে। সমশক্তির ক্যারিবিয়ান দল যে কোনো মুহূর্তেই হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর। ক্রিস গেইল আতঙ্কের সাথে ওদের পেস শক্তি কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে জ্যাসন হোল্ডারের দলকে। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের সুযোগ সমান সমান।

 

এরপরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরীক্ষা দেবে সাকিব-মুশফিকরা। ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ ফেরায় শক্তি বেড়েছে আরও একটু। আর পেস শক্তি তো আছেই। এমনকি লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাও মাঝে মাঝে দেয় চমক। নিঃসন্দেহে ফেভারিট অস্ট্রেলিয়া।

 

আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ ম্যাচে অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে ফ্যাক্টর। আর তাতে অনেক এগিয়ে মাশরাফী-সাকিব-তামিমরা। যদিও নিজেদের দিনে অনেক দুর্ধর্ষ এক দল আফগানরা। তবুও এই ম্যাচে জয় পেতে পারে টাইগাররা।

 

২ জুলাই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ও শিরোপার দাবিদার ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে যে ছন্দে আছে বিরাট কোহলির দল, তাতে পাত্তা পাওয়ার কথা নয় টাইগারদের। যদিও বিশ্বকাপের ম্যাচ, তাই ঘটে যেতে পারে যেকোনো কাণ্ড।

 

৫ জুলাই শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের মোকাবেলা করবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচে এগিয়ে থাকা দলের নাম বাংলাদেশই। যে কোনো বিবেচনায় এখন সেরা দল বাংলাদেশ। পাকদের এই আছে তো এই নেই, এ অবস্থার ফায়দা লুটতে পারে স্টিভ রোডসের দল।

 

তাহলে সমীকরণ দাঁড়াচ্ছে, আরও চার ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশকে। সেক্ষেত্রে লাইন আপ হতে পারে এমন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারালেও জিততে হবে আরও একটি ম্যাচ। সেজন্য হারাতে হবে মহাশক্তিধর অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতকে। অনেক কঠিন ভাবছেন যারা, তাদের জন্য সান্ত্বনা হচ্ছে এই, নিজেদের দিনে যে কোনো দলকে গুড়িয়ে দিতে ওস্তাদ সাকিব-তামিমরা।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

LIVE
Play
জয়নুলের ‘বিদ্রোহী’
সুরের রাজা কিশোর কুমার
দুধের ঘোল এবং তামাশা
কোন পথে বাংলাদেশের ক্রিকেট?