বাংলাদেশ

করোনা আর দারিদ্র্য নিয়েই ঈদ কাটছে নিম্ন আয়ের মানুষের

ঈদ। যদিও খুশির বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু সবার জন্য কি সেই বার্তা একই ভাবে পৌছায় ? কারো কারো জীবনে ঈদ একটি দিবস মাত্র।

কেননা পাশের বাড়ি থেকে যখন ভালো ভালো খাবারের সুঘ্রাণ পৌছায়, তখন ঘরের বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে কেবল দু:খ বাড়ে। সেসব সুখ-দু:খের খবর জানাচ্ছেন রাজু হামিদ।

ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারা বেগমের এই দৃষ্টিই বলে দিচ্ছে তার কাছে ঈদ মানে একবেলা গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়া। তাই সকাল সকাল পলিথিন নিয়ে কড়া নাড়ছেন এবাড়ি ওবাড়ির দরজায়।

আব্দুল হাইয়ের মনে আজ বেজায় আনন্দ। কেননা দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া এই বৃদ্ধ আজ পরিবারের জন্য বেশ কয়েক পোটলা মাংস পেয়েছেন। জাল দিয়ে কয়েক দিন এই মাংস দিয়েই কাটিয়ে দেয়া যাবে।

একই অবস্থা আমেনা বেগমের। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী কলমাকান্দার মেয়ে আনোয়ারা ঢাকায় থাকেন এক যুগের বেশি সময়। তার কাছেও ঈদ মানে সবাই মিলে মাংস দিয়ে ভাত খাওয়া।

এদের সবার গল্পই একই রকম। তবে ব্যতিক্রমও রয়েছে। তাদেরই একজন ফাতেমা। সেন্টমার্টিনের মেয়ে ফাতেমার আজ বারবার ছেলে ও স্বামীকে মনে পড়ছে। কেউ কাছে নেই। সবাই তাকে ছেড়ে গেছে। তাই দিন চলে, না চলার মতো করেই। রান্না হয়নি, যদি কেউ দুবেলা খাবার দিয়ে যায় তার তার ঈদানন্দ।

নিম্নবিত্ত এসব পরিবারের ঈদ কখনো হাসায়-কখনো চিন্তার ভাজ ফেলায়। গল্পের শুরুতেই যে প্রশ্নটি রেখেছিলাম, ঈদ কি সবার জন্য খুশির বার্তা নিয়ে আসে ? নিশ্চয়ই এতোক্ষণে প্রশ্নের জবাব এসেছে। তারপরও তাদেও মাঝেও ঈদ আসে বারংবার।

রাহা/ফই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়
মশা তাড়াতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা যায়
গ্রিন টির ভালো-মন্দ
পাহাড়ের ভাষা, সমতলের ভাষা