30 C
Dhaka
বুধবার, জুলাই ৬, ২০২২

পদ্মাসেতু নিয়ে এক সময় ছিলো নানা গুজব

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

:: সাখাওয়াত হোসেন ::

দক্ষিণবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে ২৫ জুন। এদিন উন্মোচন হবে পদ্মা সেতুর দ্বার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে। এসব অঞ্চলের প্রায় ছয় কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। কারণ, পদ্মা সেতু এসব জেলাকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে সড়ক পথে সংযুক্ত করবে। এছাড়া পদ্মা সেতু ও সংযোগ সড়ক এশিয়ান হাইওয়ে রুট এ এইচ-১ এর অংশ হওয়ায় তা যথাযথ ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মাসেতু এক সময় ছিলো নানা গুজব
তবে নিশ্চয় সবার মনে আছে  ২০১৫ সালে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে মানুষের কাটা মাথা লাগবে বলে সারাদেশে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিলো । এই গুজবকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ‘ছেলে ধরা’ সন্দেহে মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

ছেলে ধরা সন্দেহে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে এলাকাবাসী। মোহাম্মাদপুরে এক নারীকে একই সন্দেহে বেদম মারধর করা হয়।  পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এছাড়া, লক্ষ্মীপুর জেলার দালাল বাজারে  এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে পুলিশে দেয় জনতা। ঘটনার আগে ওই ব্যক্তি রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ছেলে ধরা সন্দেহে  মারধরের এরকম আরও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

যেভাবে গুজব ছড়ায়
২০১৫ সালের ১ মার্চ নদীতে পশুর রক্ত ঢেলে পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর পরীক্ষামূলক ভিত্তি স্থাপনের সময় নদীতে গরু ও খাসির রক্ত ঢালতে দেখা যায় চাইনিজ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। ভাসিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মুরগিও। তাদের বিশ্বাস, বড় কাজের শুরুতে পশু উৎসর্গের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, এড়ানো যায় বড় দুর্ঘটনা। তখন গণমাধ্যমেও এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময়ের রক্তের ছবি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি মহল। অসাধু ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূল তথ্য আড়াল করে পুরনো সেই ছবিকে মানুষের রক্তের ছবি বলে চালাতে থাকে।

পুলিশের সূত্র বলছে, ২০১৬- ২০১৭ সালে এই চক্রটি চুপচাপ ছিল। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই গুজবের সূত্রপাত হয় । এরপর গত কয়েক মাস চুপচাপ থাকার এবছরের মার্চ মাস থেকে ফের শুরু হয় গুজব। বলা হয়, পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগবে।  একটি চক্র এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়।

কেমন আছে সেই রেণুর শিশুসন্তানেরা
২০১৮ সেতুতে মাথা লাগবে তিন বছর আগে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল দেশজুড়ে। ওই সময় ছেলেধরা সন্দেহে ঢাকায় গণপিটুনিতে প্রাণ হারান তাসলিমা বেগম রেণু। তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। সর্বকনিষ্ঠ মেয়ের করুণ মৃত্যুতে আজও কাঁদছেন বৃদ্ধা ছবুরা খাতুন (৭৫)। মাকে খুঁজে ফিরছে দুই শিশুসন্তান তাহসিন আল মাহির (১৩) ও তাসমিম মাহিরা তুবা (৭)।

মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তুবা বড় খালার সঙ্গে থাকছে। খালাকেই মা বলে ডাকে। এখন পড়ালেখা করছে প্রথম শ্রেণিতে। আর মাহিরকে ভর্তি করা হয়েছে মাইলস্টোন স্কুলে। সেখানে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে সে। তাসলিমা আক্তার রেনু ইডেন কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেছিলেন। ব্র্যাক এবং পরে আড়ংয়ে চাকরি করতেন। ছেলে মাহিরের বয়স যখন দেড় বছর, তখন চাকরি ছেড়ে দেন। তুবার জন্মের পর স্বামীর সঙ্গে রেণুর ছাড়াছাড়ি হয়। একলা মা দুই সন্তানকে সামলাতেন।

জানা যায়, ২০১৯ সালে ছেলেধরার গুজবে সারা দেশে ২১টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারান পাঁচজন। ওই বছরের ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়ে তুবাকে ভর্তির বিষয়ে তথ্য জানতে যান তাছলিমা আক্তার রেণু। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন নারী তাঁকে ছেলেধরা সন্দেহ করলে তাৎক্ষণিক ওই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই বিভিন্ন বয়সী কয়েক শ নারী-পুরুষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়েন। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে রেণুকে দোতলায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। লোকজন সেখানকার লোহার গেট ভেঙে রেণুকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে এনে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী,

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বাধিক পঠিত