আন্তর্জাতিক, আলোচিত, বাংলাদেশ

কে এই জেনারেল সোলাইমানি?

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ইরানের বিশেষ বাহিনী রেভ্যুলশনারি গার্ডের কুদস শাখার প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হয়েছেন।

দেশের বাইরে অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কুদস ফোর্সের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ইরানি সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি একজন। আর আমেরিকা ও তার মিত্রদের সবচেয়ে বড় শত্রু ভাবা হতো তাকে।

২০১৮ সাল থেকে তার আঞ্চলিক প্রভাব প্রকাশ্যে চলে আসে। তখন ইরাক সরকার গঠনে শীর্ষ আলোচনায় তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন। দুই দশকেরও বেশি আঞ্চলিক প্রভাববলয়ে থাকার পর তার ওপর এই হামলার ঘটনা খুব অবাক করা বিষয় নয়।

‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ২০১৮ সালের নভেম্বরে এমন রিপোর্টও করেছে যে, সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যার অন্তত এক বছর আগে একই খুনে দল ইসরায়েলের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে সোলাইমানিকে নিয়ে অনুরূপ কিছু পরিকল্পনা করছিল। এ কাজের বাজেট ছিল দুই বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্য হাসিলে ভাড়াটে কোনো শক্তিকে ব্যবহারের কথা ছিল। অজ্ঞাত কারণে তা সফল হয়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে সবচেয়ে বড় সেলিব্রেটি হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। ইনস্টাগ্রামে তার বিপুল অনুসারী রয়েছেন।

২০১৩ সালে সিরিয়া যুদ্ধে ইরানের হস্তক্ষেপের পর তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তার প্রোফাইল যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি, তথ্যচিত্র, গানের ভিডিও ও অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের পোস্টে ভারী হয়ে ওঠে।

গত অক্টোবরে ইরানি টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের ইসরাইল-হিজবুল্লাহ লড়াইয়ের সময় তিনি লেবাননে ছিলেন। এ সময় তিনি মাঠে থেকে যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

তার শত্রু ও মিত্র উভয়েই স্বীকার করে নিয়েছেন যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের মূল স্থপতি হলেন তিনি। জিহাদি বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবার ইরাক ও সিরিয়া ছাড়াও গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কূটনৈতিক শক্তি বাড়িয়েছেন।

২০১৭ সালে টাইমের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন হিসেবে তাকে নিয়ে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এর বিশ্লেষক কিনেথ পোলাক। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের শিয়াদের কাছে তিনি জেমস বন্ড, এরউইন রোমেল ও লেডি গাগা।’

অর্থনৈতিক সংকটে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে বাইরে থেকে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে চাপ বাড়িয়েছিল। তখন ইরানিদের অনেকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সোলাইমানিকে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হচ্ছেন বলে তাকে নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তবে ইরানের প্রতিবেশী ইরাকের রাজনীতিকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

যখন নতুন সরকার গঠনের আলোচনা শুরু হয়, তখন গত সেপ্টেম্বরে হঠকারী গণভোটের পর কুর্দিশদের স্বাধীনতা পরিকল্পনা বাতিল করতে চাপ প্রয়োগের নেতৃত্ব দিয়েছেন এই জেনারেল।

২০১৮ সালে ইরানপোল ও মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় একটি জরিপ প্রকাশ করেছে, ‘যেখানে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের চেয়েও তার জনপ্রিয়তা বেশি দেখা গেছে।’

‘কুদস’ শব্দের অর্থ ‘পবিত্র’। বোঝা যায়, সোলাইমানির এই বাহিনীর অগ্রযাত্রায় ধর্মীয় প্রণোদনা আছে। সেটা কতটা ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে, আর কতটা শিয়া মতাদর্শের পরিসর বাড়াতে, তা নিয়ে বিতর্কও আছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফ্রন্টে তৎপর দেখা যাচ্ছে ‘পবিত্র’ এই যোদ্ধাদের।

২১-২২ বছর হলো বাহিনীটি গড়ে তুলছেন তিনি। অপ্রচলিত যুদ্ধের জন্য তৈরি একটা বৃহৎ ‘স্পেশাল অপারেশান ইউনিট’ বলা যায় একে। যার প্রধান কর্মক্ষেত্র এখন ইরানের বাইরে। দেশটির বৈশ্বিক উত্থানে বর্শার ফলকে পরিণত হয়েছেন কুদস ফোর্সের সদস্যরা, যাদের ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন কাসেম সোলাইমানি। যে তৎপরতার তাপ লাগছে পৃথিবীর অন্যত্রও বিশেষ করে অর্থনীতিতে।

ফই/সাহু/ফই

LIVE


মোবাইল-টিভিতে চোখ, কতটা ক্ষতি হচ্ছে শিশুর!
কেন নেবেন কাউন্সেলিং সেবা?
টেইলর সুইফটের প্রতিদিনের রুটিন
আমাজন রেইন ফরেস্টের নিধন বেড়েছে ৮৫ শতাংশ