বাংলাদেশ , ,

কোরবানির তাৎপর্য

জান্নাতুল কলি

কোরবানি শব্দের অর্থ উৎসর্গ করা, আত্মত্যাগ করা, নিবেদিত প্রাণে বিলিয়ে দেওয়া। মন-প্রাণ উজার করে দু’জাহানের মালিকের নামে উৎসর্গ করা। প্রকৃত অর্থে বান্দার পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর নামে কোন কিছু আত্বত্যাগ বা উৎসর্গ করা-ই কোরবানি। যা শরীয়তের বিধান হিসাবে ওয়াজীব।

 

মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতিটি বিধানের পিছনে রয়েছে অর্ন্তনিহীত তাৎপর্য। বান্দা ও মালিকের মাঝে গভীর ভালবাসা, অকৃত্রিম প্রেম-প্রীতি ও নিবীড় সেতুবন্ধনের এক অনন্য উপায় হচ্ছে কোরবানি। আল্লাহর দেওয়া জীবন ও সম্পদ থেকে আল্লাহর নামে কোন কিছু বিলিয়ে দেওয়ার উত্তম নমুনা হচ্ছে কোরবানি।

 

আমরা যে কোরবানি করি এটা হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) পরীক্ষামূলক স্বপ্নে নির্দেশিত হয়ে তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)কে কোরবানি করে পৃথিবীতে এক বিস্ময়কর ইতিহাস রচনা করেন।

 

হজরত ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। বয়স আশি পেরিয়ে যাওয়া হজরত ইব্রাহিম (আ.) ছিলেন নিঃসন্তান। তখন তিনি আল্লাহর কাছে দ্বীনের পতাকাবাহী একজন উত্তরসূরি রেখে যাওয়ার আকুতি জানান। মহান রবের দরবারে দীর্ঘদিনের কাকুতি-মিনতির পরে লাভ করেছিলেন একটি পুত্রসন্তান। জীবনের পড়ন্ত বিকেলে তার একমাত্র সম্বল হয়ে উঠলো পুত্র ইসমাইল (আ.)।

 

কিন্তু আল্লাহর আদেশে পুত্র ইসমাইল (আঃ)কে কোরবানি করেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। তখন আল্লাহর ইচ্ছা পূরণে নিজেকে খঞ্জরের নিচে সঁপে দিয়ে হজরত ইসমাইল (আ.) আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সেই মহান স্মৃতির পুনরাবৃত্তিতেই ইসলামে কোরবানির বিধানকে সীমাহীন গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। যার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ভোগে নয়, ত্যাগেই আত্মার পরিপূর্ণত ‘।

 

পবিত্র কোরআনের বর্ণনায় ইব্রাহিম (আ.)-এর স্মৃতিকথা বিবৃত হয়েছে এভাবে- অতঃপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সাথে চলাফেরার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহিম তাকে বলল : বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি তোমাকে জবাই করছি; এখন তোমার অভিমত কী সেটা ভেবে বল। সে বলল, পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী হিসেবে পাবেন। যখন পিতা-পুত্র উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম তাকে জবাই করার জন্য শায়িত করলেন। তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহিম! তুমি তো  স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।

 

কুরআন-হাদিসে কোরবানির গুরুত্ব ও তাৎপর্য সম্পর্কে অনেক আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে পাকের সবচেয়ে ছোট সূরা আল-কাওছারে বলেছেন, ‘অতএব তুমি তোমার প্রভুর উদ্দেশে নামাজ পড়ো এবং কোরবানি করো।’

 

আত্মত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যারা আল্লাহর নামে কোরবানি করে তাদের জন্য সীমাহীন সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তবে কোরবানি আন্তরিকতা ছাড়া কবুল হয় না। নিবেদিতপ্রাণ হয়ে শরিয়তের প্রতি অগাধ আস্থা সহকারে কোরবানি করতে হয়। পশু কোরবানির মাধ্যমে আত্মত্যাগের অপূর্ব পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সহানুভূতির গভীর বন্ধনে শান্তির বাতাস বয়। গরিব-দুঃখী, দীনহীন অনাথ এতিম মানুষজন এক দিনের জন্য হলেও নিজেদের অধিকার ফিরে পায়। ঘরে ঘরে জেগে ওঠে দ্বীনি আমেজ।

 

জার/ফই

LIVE
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!