২১/০১/২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
15 C
Dhaka
২১/০১/২০২৬, ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খুলনায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, ব্যর্থ শত কোটি টাকার প্রকল্প

খুলনা মহানগরে বৃষ্টির সাথে সাথে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকা। নগরের প্রধান সড়ক ও গলিপথ গুলো ডুবে যায় পানির নিচে। এর আগে সোমবার রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে সকাল থেকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসগামী মানুষ, স্কুল ও কলেজপড়–য়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ নাগরিকরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মহানগরের বয়রা, রূপসা, লবণচরা, খানজাহান আলী, গল্লামারী, সোনাডাঙ্গা, শিববাড়ী, নিরালা, মজিদ সরণি, দৌলতপুর এবং বরাবরের মত সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধ হয়েছে নগরের প্রাণকেন্দ্র রয়েল মোড় এলাকা। হাঁটু সমান পানিতে চলাচল করছেন মানুষ। অনেক অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল অচল হয়ে হয়ে গেছে। গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সকাল থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

বিজ্ঞাপন


নগরবাসীরা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও বাস্তবে নেই কোন সুফল। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নগরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম ২২টি খাল দখলমুক্তসহ সংস্কার না করা ও নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রক্ষনাবেক্ষন না করায় এই দুর্ভোগ রয়েই যাচ্ছে।

খালিশপুর বাস্তুহরা এলাকার বাসিন্দা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। প্রতিবছর বর্ষা এলেই মুজগুন্নী মহাসড়ক ও আশপাশের রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। সিটি কর্পোরেশন শুধু উন্নয়নের নামে চকচকে রাস্তা ড্রেন বানায়, জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন অগ্রগতি নেই।

পাবলা কারিকর পাড়া এলাকার রিকশাচালক উজ্জল শেখ প্রায় ২৫ বছর ধরে খুলনায় বসবাস করেন। তিনি বলেন, আগে বৃষ্টি হলেও পানি বেশিক্ষণ থাকত না। কিন্তু গত ৮-১০ বছরে অবস্থা ভয়াবহ হয়েছে। এত বেশী ড্রেন আর কালভার্ট হয়েছে, যে কোনোটা দিয়েই পানি নামে না। জলাবদ্ধতা হলে আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু মালিককে ঠিকই জমার টাকা দিতে হয়।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। ২০ জুন পর্যন্ত চলতে পারে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে জিওবির ফান্ডে ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প এবং আরও ৬৫২ কোটি টাকা ব্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা উন্নয়ন ও পুনবিন্যাস নামে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাস্তবে এসব প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ, ধীরগতির, এবং কোথাও কোথাও নিম্নমানের হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমার পরিবর্তে বরং দিনদিন বেড়েই চলেছে। বৃষ্টির পানির দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় অবৈধ দখল ও সড়ক সংস্কার কাজের কারণে পানিনিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। গত সাড়ে পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ছয়শ কোটি টাকা খরচ করে নগরের বিভিন্ন ড্রেন নির্মাণ ও সাতটি খাল খনন করা হয়েছে। এরপরও নগরবাসী সুফল না পাওয়ায় প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব এড.বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনা শহরের জলাবদ্ধতা শুধুই বৃষ্টির জন্য নয়, এটি মূলত একটি পরিকল্পনাহীন নগর ব্যবস্থাপনার ফল। খাল-ড্রেনের দখল, খনন না করা, প্লাস্টিক বর্জ্যে ড্রেন বন্ধ হওয়া, উন্নয়ন প্রকল্পের অসম্পূর্ণতা সব মিলিয়ে এটি একটি নীতিগত ব্যর্থতা। এছাড়া নগরীর বিল পাবলা ও রায়ের মহলের মতো প্রাকৃতিক জলাধারগুলো আবাসন ব্যবসায়ীরা ভরাট করে ফেলায় বৃষ্টির পানি জমার আর জায়গা নেই।

এ বিষয়ে কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রকল্পের আওতায় পাম্প স্টেশন ও সুইচ গেট সংস্কারের মতো কিছু কাজ এখনো বাকি আছে। এগুলো শেষ হলে নগরবাসী সুফল পাবে।

কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় জলাবদ্ধতা থেকে সুফল মিলছে না। তিনি আরও বলেন, কেসিসির একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার ড্রেন ও ২৩ কিলোমিটার খাল সংস্কার হবে। আর অপর প্রকল্পে রাস্তা উন্নতকরণ করা হবে ৩০৩ কিলোমিটার। দুটি প্রকল্পেরই মেয়াদ ছিল ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। বর্ধিত মেয়াদে যা শেষ হওয়ার কথা চলতি মাসে।

পড়ুন : খুলনায় নতুন নোট না পেয়ে হতাশ গ্রাহকরা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন