বাংলাদেশ

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গেছেন নুসরাত

গায়ে আগুন দিয়ে হত্যার শিকার নুসরাত জাহান রাফি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে গেছেন।

 

সেখানে তিনি বলেছেন, গত শনিবার সকালে তিনি ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বোরকা পরা চার নারী তাকে মামলা তুলে নিতে বলে। তাতে রাজি না হওয়ায় ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

 

জবানবন্দিতে নুসরাত বলেন, বোরকায় মুখ ঢাকা থাকায় ওই চারজনের কাউকে তিনি চিনতে পারেননি। তবে এক পর্যায়ে তাদের একজন আরেকজনকে শম্পা নামে ডেকেছে, সেটা তার মনে আছে।

 

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলাসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সিরাজের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

তার বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, জবানবন্দিতে নাম আসা শম্পাকে খুঁজতে গিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নুসরাতের সহপাঠী পপিকে আটক করা হয়েছে। নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না এবং এ ঘটনায় জড়িতদের সন্ধান পেতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, শ্লীলতাহানির মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিচারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করলে তাতে বাধা দিয়েছিলেন পপি। অধ্যক্ষের পক্ষে মানববন্ধনেও তাকে দেখা যায়।

 

নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান যে মামলা করেছেন, সেখানে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আসামির তালিকায় নাম থাকা বাকি সাতজন হলেন- পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সাবেক ছাত্র শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের। এদের মধ্যে জোবায়েরকেও মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

এছাড়া ঘটনার সময় ‘হাতমোজা, চশমা ও বোরকা’ পরিহিত আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে এ মামলায়।

 

আসামি গ্রেপ্তারে গড়িমসি এবং কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সেখানকার পুলিশ সদস্যদের অপসারণের দাবি তুলেছিলেন স্থানীয়রা।

 

এই প্রেক্ষাপটে মোয়াজ্জেমকে থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।

 

আর নুসরাতকে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তভার থানার হাত থেকে দেয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হাতে।

 

শাই/ফই
LIVE
Play
ভারত সরকার কি মিথ্যা বলছে?
ভারতকে কি হারাতে পারবে নিউজিল্যান্ড?
কতটা কঠিন হবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল?
রাইড শেয়ারিংয়ের অর্থনীতি