আন্তর্জাতিক, আলোচিত, বাংলাদেশ

চাঁদের মালিক কে?

১৯৬৯ সালের জুলাই মাসের অ্যাপোলো ১১ অভিযান থেকে শুরু করে ১৯৭২ সালের পর থেকে চাঁদে আর কোনো মানুষ যায়নি। পরিস্থিতি বদলে যাবে অচিরে। চাঁদে অভিযান চালানোর আগ্রহ দেখাচ্ছে অনেকে। আগ্রহীদের অনেকেরই উদ্দেশ্য চাঁদ থেকে সোনা, প্লাটিনাম আর দুর্লভ ধাতু আহরণ। ইলেকট্রনিক্স আর ন্যানো প্রযুক্তির প্রসার এ চাহিদার জন্ম দিচ্ছে।

 

এ মাসের শুরুর দিকে চ্যাং এ ফোর নামে চীনের একটি নভোযান চাঁদে নেমেছে। উপগ্রহটির মাটিতে একটি বায়োস্ফিয়ার স্থাপন করে সেখানে একটি চারা গাছ রোপণ করেছে চন্দ্রযানটি। এখন সেখানে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করার চেষ্টাও করছে চ্যাং এ ফোর।

 

চীনই শুধু চাঁদের দিকে তাকায়নি। জাপানের কোম্পানি আইস্পেস ‘চাঁদ-পৃথিবী পরিবহন প্লাটফর্ম’ নামের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা চাঁদের মেরুতে অভিযান চালাতে চায়। পৃথিবীর একমাত্র এ উপগ্রহ যদি সত্যিই অর্থকরী হয়ে দেখা দেয় তাহলে আকাশে রূপালি গোলকটির দিকে আরও অনেক শক্তিমান দেশের প্রধানদের চোখ পড়বে। বাণিজ্যিক আর রাজনৈতিক জমি ও সম্পদ দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চলা স্নায়ুযুদ্ধের সময় মহাকাশ অভিযান শুরুর পরপরই মহাকাশের নানা বস্তুর মালিকানার বিষয়টি নিয়ে সবাই মাথা ঘামাতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা যখন প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তখন ১৯৬৭ সালে জাতিসংঘে বহির্জগতের মহাকাশ চুক্তি নামের একটি চুক্তিপত্র গ্রহণ করা হয়। সেখানে বলা হয়, পৃথিবীর বাইরের মহাশূন্যে, চাঁদ এবং অন্যান্য যেসব বস্তু রয়েছে, সেখানে কোনো দেশ দখল বা অন্য কোনোভাবে নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্য ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

 

এখন অ্যাপোলো ১১ চন্দ্রলোকে অভিযানের ভিডিওতে আমরা নিল আর্মস্ট্রংকে এবং পরবর্তীতে আরও অনেককে চাঁদে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা লাগাতে দেখি। উপরে বর্ণিত চুক্তি অনুসারে এধরনের কাজ অর্থহীন।

 

১৯৭৯ সালে চাঁদ ও মহাশূন্যের অন্যান্য বস্তুতে বিভিন্ন রাষ্ট্রগুলোর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ একটি সমঝোতা প্রস্তাব আনে। ‘মুন এগ্রিমেন্ট’ নামে পরিচিত এ সমঝোতায় আছে, জোতিষ্কে মানুষের কর্মকাণ্ড হতে হবে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। কোনো মহাকাশ স্টেশন বানাতে হলে কেন এবং কোথায় সেটি বানানো হবে তা আগে জাতিসংঘকে অবশ্যই জানাতে হবে।

 

মুন এগ্রিমেন্টে আরো বলা ছিল যে, চাঁদ এবং এর সকল প্রাকৃতিক সম্পত্তির ওপর মানব সভ্যতার সবার সমান অধিকার থাকবে। যখন সেখান থেকে খনি আহরণ সম্ভব হবে, তখন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যারা সেই আহরণের বিষয়গুলোর ওপর নজর রাখবে।

 

কিন্তু মাত্র ১১টি দেশ মুন এগ্রিমেন্টে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন এবং রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দেশগুলো চুক্তিটি সমর্থন করেনি।

 

১৯৬৭ বা ১৯৬৯ সাল পার করে আমরা এখন ২০১৯ সালে চলে এসেছি। প্রযুক্তির অনেক উন্নতি হয়েছে, আমাদের চিন্তাভাবনায়ও এসেছে অনেক পরিবর্তন। খনিজ সম্পদ আহরণ এখন খুবই লাভজনক একটি ব্যাপার। এখন চাঁদ থেকেও কাজটি করা লাভজনক হলে অনেকের চোখই চকচক করে উঠতে পারে। মহাশূন্যের জ্যোতিষ্কগুলোর ওপর কারো মালিকানা না থাকার বর্তমান চুক্তিগুলো সম্প্রতি আরো বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

 

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মহাশূন্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ রেখে একটি আইন অনুমোদন করে। সেখানে বলা হয়, কোনো গ্রহাণু থেকে খনিজ সম্পদ আহরণ করা যাবে। সেখানে চাঁদের কথা উল্লেখ করা না হলেও সেটিও এই আইনের আওতায় আসতে পারে যেকোনো সময়।

 

২০১৭ সালে লুক্সেমবার্গ তাদের নিজস্ব আইন অনুমোদন করে যেখানে মহাশূন্যে অধিকার করা কোনো বস্তু বা সম্পত্তির মালিকানার স্বীকৃতি দেয়া হয়। মহাকাশে অভিযান এবং আরো বেশি অর্থ লাভের সম্ভাবনায় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করতে এভাবেই আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেক দেশ।

 

বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যদি এখন মহাকাশে সম্পদ আহরণের মতো কর্মকাণ্ড শুরু করে, তাহলে চাঁদের বা পৃথিবীর প্রকৃতি কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।

 

 

মাহা/তুখ/ফই

 

LIVE
Play
ছুটিতে ওবামা যে বইগুলো পড়বেন
বাণিজ্যযুদ্ধের লাভ-ক্ষতি
৭০ বছরের পুরোনো ভূতুড়ে ছবির রহস্য!
উসাইন বোল্টের গতির তুলনা!