বাংলাদেশ ,

চামড়া: উৎস থেকে গন্তব্য

ফরহাদ হোসেন

পায়ে থাকা নতুন চকচকে জুতোটি কিভাবে বানানো হয়, শো-রুমেই বা এত জুতো আসে কোথা থেকে? এসব প্রশ্ন অনেক সময়ই আমাদের মাথায় ঘুরপাক খায়। তবে আমরা অনেকেই জানিনা এর উৎস।

 

চামড়া থেকে পণ্য উৎপাদানের শুরুটা হয় কাঁচা চামড়া সংগ্রহ দিয়ে। সাধারণত কোরবানির ঈদেই সারা বছরের সিংহভাগ চামড়া সংগৃহীত হয়। গ্রামে, পাড়ায় মহল্লায় যারা চামড়া সংগ্রহ করেন তারা ফড়িয়া নামে পরিচিত। অনেক সময় ঈদকে সামনে রেখে মৌসুমী ফড়িয়া শ্রেণী গড়ে ওঠে।

কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে তারা বিক্রি করেন স্থানীয় বড় ফড়িয়া কিংবা আড়তদারদের কাছে। সারা দেশে যে চামড়া সংগ্রহ হয়, সেগুলোর বড় একটি অংশই আসে পুরান ঢাকার পোস্তা এলাকার আড়তগুলোতে। এখানে চামড়ায় লেগে থাকা রক্ত, মাংস, তেল, ঝিল্লি, শিং, কান আলাদ করা হয়। এরপর চামড়ার নীচের দিকে অর্থাৎ যেদিকে পশম থাকে তার উল্টোপাশে লবণ লাগানো হয়। এরপর তা সংরক্ষণ হয় আড়তে। লবণ দেয়া চামড়া কয়েক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়া সংরক্ষণে ১০ থেকে ১৫ কেজি লবণ লাগে।

আড়তদারদের কাছ থেকে চামড়া কিনে নেন ট্যানারি মালিকরা। তারাও নিজেদের মত করে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করেন। ট্যানারিতে নিয়ে আসা লবণ দেয়া চামড়ায় রাসায়নিক ব্যবহার করে পশম ছাড়ানো হয়। এরপর দেয়া হয় ওয়েট ব্লুতে। বড় আকারের একটি ড্রামে রাসায়নিক মিশিয়ে সেখানে চামড়া ফেলে মুখ বন্ধ করে ঘুরানো হয়। এসময় চামড়া নীল রং ধারণ করায় এটি ওয়েট ব্লু নামে পরিচিত। পরিষ্কার হওয়া নীল রং এর চামড়াকে এবার গ্যাস ব্যবহার করে শুকানো হয়, যা ক্রাস্ট নামে পরিচিত।

এরপর একে ফিনিশড লেদারে পরিণত হতে কয়েকটি মেশিন দিয়ে যেতে হয়। কাঁচা চামড়া থেকে ফিনিশড লেদারে প্রস্তুত করতে মোট ৭টি প্রক্রিয়া আছে। ফিনিশড লেদারকে পুরুত্ব অনুযায়ী কয়েকটি লেয়ারে ভাগ করা হয়ে থাকে। না হলে কোন ভাবেই জুতো তৈরি করা যাবে না। লেয়ারে ভাগ করা না হলে জুতো হবে লোহার মত শক্ত। আরামদায়ক ও নরম করতেই কয়েকটি লেয়ারে ভাগ হয় ফিনিশড লেদার। এই চামড়া সরাসরি রপ্তানির জন্যও চলে যায়।

আর যেগুলো থেকে চামড়াজাত পণ্য তৈরি হবে সেগুলো চলে যায় উৎপাদন কারখানায়। সেখানে চামড়া প্রকৌশলী থেকে শুরু করে আছেন ডিজাইনার। তাদের নকশা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষ শ্রমিকদের হাত ঘুরে তৈরি হয় আপনার আমার পছন্দের জুতা, মানিব্যাগ, বেল্ট কিংবা হাত ব্যাগ। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শতভাগ রপ্তানি করে এমন ২৮টি কারখানা আছে, যেখানে ৩৫ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন।

 

ফহো/তুখ

LIVE
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!