আলোচিত, লাইফস্টাইল

চোখ যে মনের কথা বলে

জান্নাতুল কলি

মনের কথা পড়তে হলে নাকি চোখের ভাষা বুঝতে হয়। অনেক না বলা কোথাও নাকি চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দেয়া যায়। এখন প্রশ্ন হলো চোখের কি আসলেই কোনো ভাষা থাকে? যার মধ্যে দিয়ে বলা না বলা ভাব প্রকাশ পায়? এর উত্তর দিয়েছেন অনেক কবি-সাহিত্যিক। চোখের আক্ষরিক কোনো ভাষা না থাকলেও অভিব্যক্তির মাধ্যমে অন্তরের অনেক অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। প্রেম ভালোবাসা, রাগ অভিমান কত কিছুই না থাকে আঁখি প্রাঙ্গনে। চোখের সেই অভিব্যক্তি থেকে কি কি বোঝা যেতে পারে তা জানিয়ে দেব শব্দে শব্দে ;

 

দৃষ্টি যখন উপর নিচে

আমাদের মাথার ডান দিকে থাকে কল্পনা শক্তি।  আমরা যখন কোনো বাচ্চাকে গল্প বলি তখন একটু লক্ষ্য করে দেখবেন বক্তার চোখ মস্তিষ্কের ডানপাশে উপরের দিকে সরে যায়। এই ব্যাপারটা কিন্তু আপনাকে মিথ্যা কথা বুঝতেও সাহায্য করবে।

আবার কেউ যখন নিজের কোথায় আত্মবিশ্বাসী হয় না তখন তার দৃষ্টি থাকে ডান দিকের নিচে। যখন দেখবেন দৃষ্টি চোখের ডান পাশে নিচের দিকে তখন ধরে নেবেন যিনি বলছেন তিনি নিজের কথা গুলিয়ে ফেলেছেন অথবা পুরো ব্যাপারটা খুলে বলতে পারছেন না।

 

চোখে চোখ রেখে কথা 

আমরা সব সময় শুনে আসছি চোখে চোখ রেখে কথা বলার অর্থ হলো বক্তা সত্যি বলছেন। কিন্তু এই ধারণাটি আসলে শতভাগ সত্য নয়। কেউ চোখের দিকে তাকিয়ে নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলে ঠকিয়ে গেছেন এমন অভিজ্ঞতা জীবনে একবারও হয়নি এমন মানুষ পাওয়া এখন দুর্লভ। তবে উদ্দেশ্য ছাড়া অবচেতন মনে যদি কেউ চোখে চোখ রেখে কথা বলে তার অর্থ যিনি বলছেন সঠিক কথাই বলছেন এবং হয়তো মন থেকেও বলছেন।

 

চোখ যখন ছানাবড়া

বড় বড় চোখে তাকানো খুব পরিচিত একটি বাক্য। আমাদের প্রতিদিনের জীবনে, বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, এই প্রবাদ আমরা অনেক সময় ব্যবহার করে থাকি। এই বাক্যের খুব ভালো ব্যবহার চোখে পড়ে যখন কাউকে দেখে খুব ভালো লাগে বা অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ে অথবা কোনো কিছুতে খুব হতভম্ব হয়ে পড়ি সেক্ষেত্রে। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়।

 

পড়া না পড়া চোখের পাতা 

কথা বলার সময় কারো কারো চোখের পাতা ঘন ঘন পরে।  অনেকেই বলে থাকেন এটা নাকি মিথ্যাবাদীদের লক্ষণ আসলে তা সত্য নয়, মিথ্যা কথার সাথে চোখের পাতা পড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। একজন ব্যক্তি যখন উত্তেজিত হয়ে পড়েন তখন তার চোখের পাতা দ্রুত পড়তে থাকে। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণ বয়স্ক স্বাভাবিক মানুষের চোখের পাতা পড়ে সাধারণত মিনিটে ৬ থেকে ২০ বার।

অন্যদিকে চোখের পাতা না পড়ার আসলে অনেক ধরনের মানে হয়ে থাকে। পরিবেশ ও পরিস্থিতির বিচারে ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দাঁড়ায়। যেমন ধরুন , শ্রোতা যদি বক্তার দিকে না তাকিয়ে অন্য কোথাও একাধারে তাকিয়ে থাকেন তার অর্থ বক্তার কথায় তিনি বিরক্ত হচ্ছেন। আবার ঠিক তার উল্টোটা যদি হয় যে, শ্রোতা বক্তার চোখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে  তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।

 

তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, চোখের যে শুধু ভাষা আছে তাই নয়, বরং সে ভাষার ব্যাকরণও আছে। তাই একটু খেয়াল করুন চোখের ভাষার প্রতি, হয়তো অনেক না বলা কথাও ধরা দিবে আপনার কাছে।

 

//মাও

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়
মশা তাড়াতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা যায়
গ্রিন টির ভালো-মন্দ
পাহাড়ের ভাষা, সমতলের ভাষা