যশোরের ঝিকরগাছায় ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার না হয়েও আরেক ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তার পরিচয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্রসূতি মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের আমজেদ হোসেন এর ছেলে শরিফ উদ্দীন নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সালেহা ক্লিনিক নামের একটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। বর্তমানে তিনি ঝিকরগাছার পোস্ট অফিসের পাশে একটি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন। কথিত ডাক্তার শরিফ উদ্দিন ডাক্তার না হয়েও নিজের নামের আগে ডাক্তার লিখে সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা, ভুল চিকিৎসা, নিজেই সিজারিয়ান অপারেশন করার মত কাজে জড়িত থেকে অনেক রোগীর প্রাণহানী ঘটিয়েছে যে কারনে ইতিপূর্বে কয়েকবার জেল-জরিমানা হয়েছে তার। প্রত্যেকবার জেল থেকে বের হয়ে আবারও পুর্বের ন্যায় ডাক্তার সেজে ক্লিনিক ব্যবসা দেদারসে চালিয়ে যান।
এবার সেই ভূয়া ডাক্তার শরিফ উদ্দিন ঝিকরগাছা পৌরশহরের ফুড গোডাউন এর সামনে ফেমাস ক্লিনিকে নিজে এক প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে ঝিকরগাছা উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের শিওরদাহ (সর্দার পাড়া) গ্রামের ইয়ানুর এর মেয়ে সোহানা (১৯) এর মৃত্যু ঘটিয়েছেন। স্বজনদের অভিযোগ ভূয়া ডাক্তার এর ভূল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এত অভিযোগ যার বিরুদ্ধে সে বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ সাস্থ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এমন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
নিহত প্রসূতি সোহানার পিতা ইয়ানুর রহমান বলেন, ফেমাস ক্লিনিকের মালিক আজগার আলী তার প্রতিবেশী ভাতিজা হয়। তার পরামর্শে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় সোহানাকে ফেমাস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তার পেটে জমজ বাচ্চা ছিলো। অপারেশন এর শুরু থেকেই সোহানার অবস্থার অবনতি হতে থাকে, পরে মুমূর্ষ অবস্থায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সোহানা কে সদর রেফার্ড করে পরে সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই সোহানা মারা যায়। ঐদিন রাতেই বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। বর্তমানে জমজ বাচ্চা দুটি সুস্থ আছে।
এ বিষয়ে জানতে ফেমাস ক্লিনিক এর মালিক আজগর আলীকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুর রশিদ বলেন, এধরণের ঘটনা কোন ভাবে মেনে নেওয়া হবে না। এই ক্লিনিক এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভূয়া ডাক্তার দারা পরিচালিত ক্লিনিক দুটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট হওয়ার পরেও কতৃপক্ষ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এধরণের প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। স্থানীয়দের দাবী যেন দ্রুতই এসব অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

