ফিচার , , , , ,

টিউলিপ ফুল: ইরানের শিল্প ও রাজনীতি

আজ খুনে জাওয়াননে ওয়াতান ললেহ দামিদেহ
ইরানে লাল টিউলিপ ফুলটি শাহাদাতের প্রতিক। টিউলিপের পাপড়িগুলো রক্তের ফোঁটার মতো দেখতে। ইরানের বিখ্যাত কবি আরেফে কাজভিনির লেখা একটি কবিতার পংক্তি ইসলামি বিপ্লবের সময় সমস্বরে গাওয়া হতো –
‘আজ খুনে জাওয়াননে ওয়াতান ললেহ দামিদেহ’

মানে, জন্মভূমির যুবকদের রক্ত থেকে জন্ম নিয়েছে টিউলিপ
এই পংক্তিটি বিপ্লবের শ্লোগান হিসেবেও ব্যবহৃত হতো তখন। এর বাইরেও রঙ ভেদে টিউলিপের বিভিন্ন প্রতীকি অর্থ রয়েছে ইরানী সংস্কৃতিতে। সামগ্রিকভাবে ললেহ বা টিউলিপ ফুল হলো দৃঢ় সংকল্পের প্রতীক। হলুদ ললেহ সূর্যের সাথে তুলনীয়। সাধারণত প্রেমিকেরা তাদের প্রেমিকাদের এই হলুদ টিউলিপ উপহার দেয়। হাতে ফুল পেয়ে প্রেমিকারা যখন চোখেমুখে অনাবিল হেসে ওঠে, তখন প্রেমিকেরা মনের গহীন থেকে ভালোবাসার শব্দমালা উচ্চারণ করে।

ইরানের জাতীয় পতাকায় টিউলিপ

১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে টিউলিপ ফুল জাতীয় প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছে। ইরানের জাতীয় পতাকার মাঝখানে লাল টিউলিপ ফুলটি বিপ্লবে শহীদদের প্রতিকায়িত করে। ইরানের জাতীয় সঙ্গীতের শুরুতে যে মিউজিক, সেখানেও এই ফুলের প্রতীকি ব্যবহার রয়েছে।

আর্ট অব ওয়ার

১৯৮০-৮৮ সালের ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়ে সরকার তাদের সমর্থনে সকল পোস্টার, বিলবোর্ডে টিউলিপ ফুলের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছিলো, এমনকি ওই সময়ের শিল্পচর্চায়ও টিউলিপের ব্যাপক ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে সৈন্যদের রক্তের ভেতর থেকে একটি টিউলিপ ফুটে উঠছে। ছবির পেছনের দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে হোসাইন (রা.) বসে আছেন একটি ঘোড়ার উপর।

শোকের সময় ৭২টি টিউলিপ

১৯৮৯ সালের ৩ জানুয়ারি মারা যান ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। তার কবর সাজানো হয়েছে ৭২টি টিউলিপ সদৃশ গ্লাস দিয়ে। ৭২ টি টিউলিপ দিয়ে বোঝানো হয়েছে কারবালা প্রান্তরে হোসাইন (রা.) সাথে শহীদ ৭২ জন যোদ্ধাকে।

হোসাইনের যোদ্ধারা বিশ্বাস করতেন অন্যায়ের মধ্যে থাকার চাইতে ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ করে মৃত্যু শ্রেয়। ন্যায়ের জন্য যুদ্ধে আত্মোৎসর্গের প্রবণতা তখন থেকেই শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদের প্রতীক

২০০৯ সালের জুন মাসের ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদের প্রতীক হয়ে উঠেছিলো টিউলিপ। পুনঃনির্বাচনের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে ইরাকি জনগণ। এই গণজমায়েতে আবারো টিউলিপ ন্যায়ের পক্ষের যুদ্ধের প্রতীক হয়ে উঠেছিলো।

এই বিষয়টি নিয়ে ইরানি সমাজকর্মী মোয়েজ্জি লিখেছিলেন, টিউলিপ প্রকৃতির অসম্ভব সুন্দর একটি ফুল। ঝড়ো হাওয়াতে অনেক ফুল মরে গেলেও বেঁচে থাকে টিউলিপ। তাদের আয়ু দীর্ঘ সময়ের। ফোটার আগেই দীর্ঘ আয়ুর জন্য তারা নিজেদের তৈরি করতে থাকে। 

ভালোবাসার গল্পে টিউলিপ

শিরি-ফরহাদের প্রেমের গল্পেও উঠে এসেছে টিউলিপ এর কথা। গল্পে আছে, যুবরাজ ফরহাদ একদিন শুনতে পায় তার প্রেয়সী শিরিকে খুন করা হয়েছে, আদতে তা ছিলো মিথ্যে। ওই যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ফরহাদ পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝাঁপ দেয়। মৃত্যু হয় তার। ফরহাদের রক্ত যেখানে জমাট বেঁধে ছিলো সেখান থেকে জন্ম নিয়েছিলো একটি টিউলিপ ফুল। এভাবে পার্থিব প্রেম, আত্মোৎসর্গের ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে টিউলিপ স্থান করে নিয়েছে।

LIVE


মোবাইল-টিভিতে চোখ, কতটা ক্ষতি হচ্ছে শিশুর!
কেন নেবেন কাউন্সেলিং সেবা?
টেইলর সুইফটের প্রতিদিনের রুটিন
আমাজন রেইন ফরেস্টের নিধন বেড়েছে ৮৫ শতাংশ