প্রযুক্তি, বিনোদন

ডেটিং অ্যাপ

তাহমিনা সংগীতা

ডেটিং অ্যাপ বানিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক রুশ উদ্যোক্তা আন্দ্রে আনদ্রিভ। চলে এসেছেন   পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের কাতারে। কিন্তু যারা এই ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করছেন তাদের উপর কী প্রভাব পরছে সেটাও দেখবার বিষয়। কাছের মানুষ নির্বাচন করবে একটি অ্যাপ। বিষয়টি রোমাঞ্চকর। কিন্তু প্রযুক্তির এই ব্যবহারে দিনে দিনে যে নিজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট হারিয়ে ফেলছি সেই ভাবনার উদ্রেক আমাদের হয়না।

 

১৯০টি দেশের ৩৮ কোটি নারী-পুরুষ এর ব্যবহারকারী। পরস্পরের সম্পর্ককে এটি আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। এরকম আরো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সার্ভিস রয়েছে যেগুলো মানুষের মধ্যকার দুরত্ব কমিয়ে দিয়েছে অনেক বেশি। ফেসবুক এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। যার উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটোই আমরা দেখেছি।

 

ভালোবাসা হয়ে গেছে এখন বিনোদনের একটি মাধ্যম। অনেকে একাকিত্ব দূর করার জন্য অথবা সময় কাটানোর জন্য ভার্চুয়াল জগতে পছন্দানুযায়ী মানুষকে খুঁজে পেতে চান। যেটা শুধুই অনেকের ভাষায় ‘টাইম পাস’।

 

 

কথা বলেছিলাম আমার কয়েকজন বন্ধুর সাথে। জানতে চাইলাম তাদের কাছে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার সম্পর্কে। যা উঠে আসলো তাতে অবাক হবার কিছু নেই। কেউ বললো এটা নাকি এখন ফ্যাশন। সময় কাটানোর জন্য একটু নাকি এসবের দরকার আছে। কেউ বললো একটা মানুষকে আর কতদিন ভালো লাগে। এই অ্যাপের মাধ্যোমে নতুন নতুন মানুষকে চেনা যায়। তাদের সাথে সময় কাটানো যায়, ইচ্ছা হলে তাদের সাথে সম্পর্ক বন্ধও করে দেয়া যায়। তাতে কারো কিছু যায় আসেনা। আপাত দৃষ্টিতে এসব মাথা ব্যাথার কারণ না হলেও এর পরিণতি কত ভয়ঙ্কর হতে পারে  সেটা হয়তো ভেবে দেখা হয়নি।

 

একটা সময় ছিল, যখন নিজের পছন্দের মানুষকে খুঁজে পাবার জন্য বা তাকে জয় করার জন্য মানুষ আপ্রাণ চেষ্টা করতো। ভালোবাসার এরকম অনেক নমুনা আছে। দূরদূরান্তে থেকেও পছন্দের মানুষটিকে অনুভব করেছে তীব্রভাবে। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছে পছন্দের মানুষটিকে জয় করতে। আর এই যদি হয় ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর মন্তব্য যে যখন ইচ্ছা কারো সাথে সম্পর্ক বন্ধ করে দেয়া যায় বা ভেঙে ফেলা যায়, তখন সম্পর্কের মাহাত্ম বা গভীরতা কোথায় থাকে আমার জানা নেই।

 

 

এর কিছু প্রভাবের কথা যদি বলি তাহলে দাঁড়ায়-

মানুষের মধ্যে আত্ম-মর্যাদার জায়গাটি নিজের অজান্তেই ঠুনকো হয়ে যায়। কারণ এই  অ্যাপ ব্যাবহারকারীরা আপনাকে বার বার প্রত্যাখ্যান করতে পারে। আপনি যতই তাদের প্রোফাইলে ঠকঠক করেননা কেন, আপনাকে যদি কারো পছন্দ না হয় তাহলে সে আপনাকে বার বার ফিরিয়ে দেবে। যার ফলে আপনি আরেকজনের দ্বারস্থ হবেন। এভাবে একের পর এক আপনি বিকল্প খুঁজতে খুঁজতে এক সময় নিজের অবস্থানটাই নষ্ট করে দিতে পারেন। যার ফলাফল শুধু আপনার ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, প্রভাব ফেলবে সামাজিক জীবনেও।

 

যখন খুশি তখন চাইলেই একটি সম্পর্ক কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া ভেঙে ফেলতে পারেন। যার ফলে সম্পর্কের প্রয়োজনীতা তেমন কোনো তাৎপর্য বহন নাও করতে পারে। একটার পর একটা সম্পর্ক নিজের জীবনে তিক্ততা আনতে পারে, সম্পর্কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে ভেঙে ফেলাই উত্তম মনে হবে। কাউকে ছুড়ে ফেলে দিতে আপনি দ্বিতীয়বার ভাববেন না।

 

 

একের পর এক নতুন মানুষের সঙ্গে আপনি সময় কাটাতে পারেন। এমনকি তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্কও গড়তে পারেন। কিছুদিন পর আর তাকে ভালো লাগছেনা। তখন তৈরী হতে পারে বিষন্নতা, একাকিত্ব ও সম্পর্কের প্রতি অনীহা।

 

পরিবারকে সময় না দিয়ে অনেকে এই জগতেই বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করেন। যার ফলে পারিবারিকভাবে দেখা দিতে পারে বিশৃঙ্খলা।

 

দেখা গেছে এই জগতে সবাই এমন সব আলোচনায় মত্ত হন যা মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে।

 

আর তরুণ প্রজন্মের কথা যদি বলি, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ভার্চুয়াল জগৎ আর বাস্তবতা তাদের দ্বিধাদ্বন্দে ফেলে দিতে পারে। কাছের মানুষকে খুঁজতে গিয়ে, চলে যেতে পারে নিজের থেকে অনেক দূরে।

 

ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্য তৈরী হচ্ছে এক ধরণের সহজলোভ্য ভালোবাসার। যারা একাকিত্বে ভোগেন তারা মন মতো বন্ধু এখানে খুঁজে পেতে পারেন। কিন্তু সবাই কী তা পাচ্ছেন? ছদ্মবেশি বন্ধু সেজে যে প্রতারণা করবেনা তারই কী নিশ্চয়তা আছে?

 

প্রযুক্তির বিরোধিতা নয়, বোঝার চেষ্টা করছিলাম এর ব্যবহার ও উপযোগীতা। ফ্যাশনের সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। তবে আর যাই হোক, স্রোতে গা ভাসানো কখনো ফ্যাশন হতে পারেনা। সম্পর্ক, সেটা যেভাবেই তৈরী হোক, সেখানে বোঝাপড়া, সততা আর সম্মান থাকাটা আবশ্যক। প্রযুক্তি বিষাদময়তার উদাহরণ না হোক। আর হ্যা, ডেটিং অ্যাপ উদ্যোক্তা আন্দ্রে আনদ্রিভের সঙ্গে তাঁর বান্ধবীর দেখা বা যোগাযোগ কিন্তু কোনো অ্যাপসের মাধ্যমে হয়নি।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

LIVE
Play
ছুটিতে ওবামা যে বইগুলো পড়বেন
বাণিজ্যযুদ্ধের লাভ-ক্ষতি
৭০ বছরের পুরোনো ভূতুড়ে ছবির রহস্য!
উসাইন বোল্টের গতির তুলনা!