১১/১২/২০২৫, ১৪:৪৫ অপরাহ্ণ
25 C
Dhaka
১১/১২/২০২৫, ১৪:৪৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ঢালিউডের ‘অ্যাকশন কিং’ নায়ক জসিমের চলে যাওয়ার দিন আজ

ঢাকাই চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার কথা উঠলে যে অভিনেতার নামটি সবার আগে আসে, তিনি জসিম। বাংলা চলচ্চিত্রের ‘অ্যাকশন কিং’ হিসেবে খ্যাত এ গুণী অভিনেতা শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও ছিলেন এক সত্যিকারের বীর। ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা এবং দর্শকের ভালোবাসায় বেঁচে থাকা এক কিংবদন্তি।

১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে পা রাখেন জসিম। খলনায়ক চরিত্রেই তার শুরু। তবে তাকে দর্শকের নজরে আনে ‘রংবাজ’ সিনেমায় অভিনয়। রাজ্জাক-কবরী জুটির বিপরীতে খলচরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে প্রশংসিত হন তিনি। এরপর ১৯৭৭ সালে দেওয়া হয় আরেকটি বড় সুযোগ। দেওয়ান নজরুলের পরিচালনায় ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় গব্বার চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দেন ঢাকাই সিনেমায়। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এ সিনেমাটি ছিল বলিউডের ঐতিহাসিক ছবি ‘শোলে’র রিমেক। ভারতীয় অভিনেতা আমজাদ খান খোদ জসিমের অভিনয়ের প্রশংসা করেন।

দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় ‘ওমর শরীফ’ ছিল জসিমের প্রথম সিনেমা যেখানে তিনি নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। গানের দৃশ্য থেকে শুরু করে মূল চরিত্রে অভিনয়- প্রথম দিকে দ্বিধায় থাকলেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের উচ্ছ্বাস দেখে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন জসিম। এখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন পথচলা- অ্যাকশন নায়কের জার্নি।

পরবর্তীতে একের পর এক সুপারহিট সিনেমায় নায়ক হিসেবে অভিনয় করে হয়ে ওঠেন বাংলার ‘অ্যাকশন হিরো’। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘তুফান’, ‘জবাব’, ‘নাগ-নাগিনী’, ‘বারুদ’, ‘বদলা’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘লালু মাস্তান’, ‘নবাবজাদা’, ‘অভিযান’, ‘বাংলার নায়ক’, ‘স্বামী কেন আসামী’, ‘রাজা বাবু’, ‘টাইগার’, ‘ভাইবোন’, ‘লাল গোলাপ’, ‘গরিবের ওস্তাদ’ সহ আরও অনেক দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র।

নায়ক জসিমের বীরত্ব শুরু হয় রূপালি পর্দার আগেই। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধে তার সাহসিকতার কথা অনেকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। সোহেল রানার মতো আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা তার মতই পরে পা রাখেন চলচ্চিত্রে।

চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়েই সুচরিতার সঙ্গে প্রেম ও পরবর্তী সময়ে বিয়ে হয় তার। যদিও সেই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে তিনি বিয়ে করেন ঢাকার প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে।

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৫৩ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন অ্যাকশন হিরো জসিম। কিন্তু আজও তিনি বেঁচে আছেন তার অভিনয়ের মাধ্যমে, দর্শকের হৃদয়ে- একজন কিংবদন্তি হয়ে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাবার কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন রাতুল


বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন