১১/১২/২০২৫, ১৪:১৭ অপরাহ্ণ
25 C
Dhaka
১১/১২/২০২৫, ১৪:১৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

তাণ্ডব চালাচ্ছে ‘মোন্থা’, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ আঘাত হেনেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঝড়টি উপকূল অতিক্রম শুরু করে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজ্যজুড়ে তীব্র বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশের ওড়িশা রাজ্যের অন্তত ১৫টি জেলাতেও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ‘মন্থা’র তাণ্ডবে এ পর্যন্ত একজনের মৃত্যু এবং দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, কোনাসীমা জেলার মাকানাগুদেম গ্রামে এক নারী নিহত হয়েছেন। প্রবল বাতাসে একটি তালগাছ ভেঙে পড়ে তার ওপর।

রাজ্য সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ঝড়ে ৩৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমির ফসল এবং এক লাখ ৩৮ হাজার হেক্টর উদ্যান ফসল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া প্রভাবিত এলাকা থেকে ৭৬ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২১৯টি মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু রয়েছে এবং গবাদিপশুর জন্য ৮৬৫ টন খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় জেলাগুলোর জন্য রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সমুদ্রে প্রায় এক মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে।

শ্রীকাকুলাম, বিশাখাপত্তনম, কাকিনাডা, নেল্লোর ও কোনাসীমা জেলায় এখনো ভারি বৃষ্টি ও দমকা বাতাস অব্যাহত রয়েছে।

উপ্পাদা–কাকিনাডা বিচ রোডে উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাস্তাটি বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা

কাকিনাডা বন্দরে ১০ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে, যা সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া বিশাখাপত্তনম, গাঙ্গাভারাম ও কালিঙ্গপত্তনম বন্দরে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত এবং মাচিলিপত্তনমসহ আরও কয়েকটি বন্দরে বিপদ সংকেত ৮ দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। তবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা এখনো রয়ে গেছে। জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত ‘মোন্থা’, উত্তাল বঙ্গোপসাগর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন