মোবাইল আর্থিক সেবা, কিউআর পেমেন্ট ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডিজিটাল পেমেন্টে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, তবুও অনেক কিছু এখনও মূলত নগদনির্ভর। নগদবিহীন অর্থনীতির পথে বড় বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে সীমিত আন্তঃসংযোগ (ইন্টারঅপারেবিলিটি), অবকাঠামোগত ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং কম ডিজিটাল সাক্ষরতা।
গতকাল পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক কর্মশালায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়। গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কর্মশালায় বাংলাদেশে ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেন এগিয়ে নেওয়ার পথ, চ্যালেঞ্জ ও নীতি অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনায় নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক, অর্থনীতিবিদ, আর্থিক খাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা একত্র হন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার। তিনি বলেন, নগদবিহীন লেনদেন উৎপাদনশীলতা বাড়াতে অবদান রাখে। তবে অর্থনীতিতে সৃষ্ট মূল্যায়নগুলো যথাযথভাবে ধারণ করা প্রয়োজন। ডিজিটাল ও নগদবিহীন লেনদেনের মাধ্যমে সৃষ্ট মূল্যকে জাতীয় উৎপাদনে প্রতিফলিত করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) জাতিসংঘের সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস (ইউএন এসএনএ) ২০২৫ গ্রহণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগবে। বাংলাদেশ ব্যাংক, বিবিএস এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাসঙ্গিক তথ্যের প্রাপ্যতা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান মূল প্রবন্ধে বলেন, বাংলাদেশের ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করতে এই পরামর্শক সভা। চীন ও ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রোডম্যাপ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ক্যাশলেস এজেন্ডাকে এখন জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারে উত্তীর্ণ করতে হবে। ডিজিটাল ও ক্যাশলেস উপকরণ এখন আর প্রান্তিক উদ্ভাবন নয়। এগুলো আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও স্বল্প লেনদেন-খরচের অর্থনীতির শক্তিশালী সক্ষমকারী। যখন পরিকল্পিত সেবা চালু করা হয়, তখন এগুলো প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে পারে, অনানুষ্ঠানিকতা কমাতে পারে, স্বচ্ছতা বাড়াতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে নগদবিহীন অর্থনীতিতে উত্তরণ হতে হবে পরিকল্পিত, সমন্বিত এবং সময়সীমাবদ্ধ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নিরাপদ পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। নগদবিহীন অর্থনীতিতে উত্তরণ সফল করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি, যাতে এই রূপান্তর সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা মার্চেন্ট গ্রহণযোগ্যতা, ডিজিটাল লেনদেনের ব্যয়, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তার এবং ফিনটেক উদ্ভাবনের ভূমিকা নিয়ে মতামত দেন। সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন অনেকেই।
কর্মশালায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম। তিনি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এজেন্ডা সমর্থনে প্রমাণভিত্তিক নীতি সংলাপ ও গবেষণায় পিআরআইর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল এইচ. খন্দকার কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন: আকুর দায় পরিশোধের পরও রিজার্ভ ৩২ বিলিয়নের ওপরে
দেখুন: তারেক রহমানের কাছে কী চাইবে শহীদ আবু সাঈদের পরিবার |
ইম/


