আন্তর্জাতিক, বাংলাদেশ, বিনোদন

নারীশক্তির প্রতীক ‘খালিসি’ এখন গণহত্যাকারী?

এই হলো ‘গেম অব থ্রোনস’ ঝড় আর জ্বর। এই সব চেনা, এই আবার অচেনা। যে কাহিনী এগুচ্ছিলো মন্থর গতিতে, হুট করে তা ছুটলো পাগলা ঘোড়ার মতো। আবার চেনা চরিত্র, হয়ে উঠলো অচেনা। চিত্রনাট্যের এই অপ্রত্যাশা-চমকই মার্কিন জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকটির অনন্যতা।

 

এমন সব চমকের খপ্পরে পড়তে পারে বাস্তব জীবনও। উদাহরণ দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

 

‘গেম অব থ্রোনস’ (জিওটি) ভক্তদের অন্যতম পছন্দের চরিত্র ড্যানেরিস টার্গেরিয়ান বা খালিসি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে এই খালিসি নাম পেয়েছে অন্তত ৫৬০টি শিশু। আর ড্যানেরিস নামের শিশুদের জুড়লে, সংখ্যাটা দাঁড়াবে সাড়ে তিন হাজার।

এতোদিন খালিসি চরিত্রটিকে দেখা হতো নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে। কিন্তু, গত রোববারের পর্বটি দেখার পর, গণ-দৃষ্টিভঙ্গি এখন পুরোই উল্টো। অনেকে বলছেন, গণহত্যাকারী হয়ে উঠেছেন খালিসি।

 

এতে দেখা দিয়েছে বিপাক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, আশপাশ- সবখানে। যে বাবা-মা সন্তানের নাম খালিসি বা ড্যানেরিস রেখেছিলেন, অনেকেই তাদের কটাক্ষ করছে। অনেকে বলছে, ‘এখনো সময় আছে, সন্তানের নাম পাল্টে নাও।’ ‘সন্তানের কাছে বাবা-মায়েদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।’

 

কেউবা আবার সান্তনা দিচ্ছে, ‘আরে নাহ, এখনো ঢের বাকি। দেখা যাক আগামী পর্বগুলোতে খালিসি হয়তো আবারো নারীশক্তির প্রতীক হিসেবেই আবির্ভূত হবেন। হয়তো এখনকার পরিস্থিতিতে তাকে হত্যাযজ্ঞ চালাতেই হতো…।’

যে যাই বলুক, আমলে নিচ্ছেন না বেশিরভাগ বাবা-মা-ই। নিউইয়র্কের ১৮ মাস বয়সী খালিসি গিয়ারির বাবা নোলান। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘আমি যখন মেয়ের নাম রাখি, তখন আমার কাছে খালিসি ছিলেন নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক। যে এতো জনকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। পরে যে সে এভাবে অত্যাচার চালাবে, তা কী করে জানবো? যদিও আমার মেয়েও অনেক সময়েই আমাদের উপর রীতিমতো অত্যাচার চালায়! তাই ঠিকই আছে…।’

 

গত বছরের মার্চে মা হন জিওটি-র বড় ভক্ত সুজ়ি ফ্রায়ট। সাত পাঁচ না ভেবেই মেয়ের নাম রাখেন খালিসি জেড ভ্যানলুভেন। ‘ড্যানেরিস, খালিসি উপাধি পাওয়ার পর থেকেই আরও প্রিয় হয়ে ওঠে। রানি হয়ে যে পরিমাণ ভালবাসা এবং সম্মান অর্জন করেছে চরিত্রটি, তা আমার মন কেড়ে নিয়েছিল। সুন্দরী হওয়ার পাশাপাশি খালিসি একজন বুদ্ধিমতী নারী।’

 

যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে গেম অব থ্রোনসের অন্যসব চরিত্রের নামেও সন্তানের নাম রাখছে। গত বছর আড়াই হাজারের বেশি শিশুর নাম রাখা হয়েছে আরিয়ার নামে। ইয়ারা নাম পেয়েছে শ-পাঁচেক। আর আরিয়ার বোন সানসার নামে নাম রাখা হয়েছে ২৯টি শিশুর।

 

পুরুষ চরিত্রগুলো অনেকটা পিছিয়ে। টাইরিয়ন ৫৮, জোরাহ্‌ ৩০ আর থিয়ন পেয়েছে ১৪টি সন্তানের নাম।

 

জেমি নামটি এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রে বেশ জনপ্রিয়। ২০০১ সালে এই নাম পায় ১,৩৩৯টি শিশু। কিন্তু, জিওটি চরিত্র জেমি ল্যানিস্টার আসার পর, ওই নাম পেয়েছে মাত্র ৫৪৭টি শিশু।

 

ফাআ/শাই/ফাআ
LIVE
Play
রাইড শেয়ারিংয়ের অর্থনীতি
প্রাণি নির্যাতন- মানুষ নির্যাতনের প্রাথমিক পর্যায়
প্রতিরোধ করো!
আজি হতে শতবর্ষ আগে