কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিযুক্ত না করতে ইসিতে বিএনপির প্রস্তাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রোববার (২৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ জামায়াত নেতা বলেন, ‘গত ২৩ অক্টোবর দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও ইবনে সিনা হাসপাতালসহ বিভিন্ন সেবামূলক এবং অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছে, তাতে আমি উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’
‘আমরা মনে করি, এই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।’
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, ‘উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অরাজনৈতিক ও সেবামূলক। তারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ‘দেশবাসী মনে করে, যদি রাজনৈতিক দলগুলো এভাবে সেবামূলক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দাবি উত্থাপন করতে থাকে, তবে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েই অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নির্বাচন কমিশন যদি এ ধরনের ঠুনকো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর দাবি গ্রহণ করে, তবে ভবিষ্যতে আরও অনেক অনর্থক দাবি উঠবে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’
এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির এই প্রস্তাব ‘আমলে না নিতে’ নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গোলাম পরওয়ার।
জাতীয় নির্বাচনের আগে ‘সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে’ গত ২৩ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপি অনেকগুলো প্রস্তাব জমা দেয়। এসব প্রস্তাবের একটি হলো—যে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় সংস্থা হিসেবে পরিচিত, তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনোভাবেই ভোটগ্রহণের দায়িত্বে—যেমন প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং বা পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।
পড়ুন : ক্ষমতায় গেলে ‘রেইনবো নেশন’ গড়বে বিএনপি : মির্জা ফখরুল


