আলোচিত, বিচিত্র বিশ্ব

পৃথিবীর দ্রুততম পাখি

তাহমিনা সঙ্গীতা

পৃথিবীর বুকে এমন কিছু বিস্ময়কর পাখি  আছে যারা প্লেনের মতো দ্রুত গতিতে আকাশ পথে ছুটতে পারে। এমন কিছু পাখির নাম না জানলে কি হয়!!

 

 

স্পাইন-টেইলড সুইফট

এরা হোয়াইট থ্রোটেড নিডলটেইল নামেও পরিচিত। সার্বিয়া ও এশিয়ার পাহাড়ি  অঞ্চলের পাখি এরা। তাদের নিডলটেইল লেজের উপর ভিত্তি করে তাদের নামকরণ করা হয়েছে। ইংলিশ পক্ষিবিজ্ঞানী জন লেথাম প্রথম এই প্রজাতির পাখি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন ১৮০১ সালে। ঘন্টায় এরা ১৭০ কি.মি. বেগে উড়তে পারে। আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এরা আনুভূমিক বা হরিজোনটালি উড়তে পারে।

 

পেরিগ্রিন ফ্যালকন

প্রাণী জগতের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম প্রাণী এবং দ্রুততম পাখি এরা। লম্বা লেজ ও প্রশস্ত পাখা এদের রাজকীয় এক রূপ দিয়েছে। শিকারে তারা খুবই পটু। এরা এতটা উচ্চতায় উড়তে পারে যে অন্যান্য পাখীদের সাথে তাদের তুলনা হয়না। শিকারের জন্য তারা ঘন্টায় ২০০ মাইল পর্যন্ত ডাইভ দিতে পারে, ৩৯০ কি.মি গতিতে এরা উড়ন্ত ছোট পাখি শিকার করতে সক্ষম। পেরিগ্রিন ফ্যালকনের পেশী অত্যন্ত শক্তিশালী; ছেলে পাখি মেয়ে পাখির চেয়ে ছোট হয়ে থাকে। এদের গায়ের রং নীল এবং ধূসর বর্ণের মিশ্রণে হয়। বেশিরভাগ উঁচু জায়গা বেঁছে নেয় তারা বসার জন্য যাতে খুব সহজে শিকারকে লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করা যায়।

 

ফ্রিগেট বার্ড

সামুদ্রিক পাখি ফ্রিগেট বার্ডের বসবাস দক্ষিণ এবং উত্তর আমেরিকায়। তাদের প্রায় পাঁচটি প্রজাতি আছে। শরীরের অনুপাতে পাখা অনেক লম্বা, যা প্রায় আড়াই মিটার। এরা ঘন্টায় দেড়শো কিলোমিটার উড়তে পারে। এদের  লাল থলেওয়ালা পাখি বললেও ভুল হবেনা। এই লাল থলের ঔজ্বল্য বয়সের সাথে সাথে বাড়ে। মেয়ে সঙ্গীদের আকৃষ্ট করার জন্য বেলুনের মতো এই থলে তারা ফুলিয়ে থাকে। হতাশার কথা হলো এই পাখিগুলোকে সংকটপূর্ণ অস্তিত্বের প্রাণীদের তালিকাভূক্ত করা হয়েছে।

 

স্পার উইংড গুজ

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হংস প্রজাতির পাখি এরা। আফ্রিকার জলাভূমিতে এদের দেখা মেলে। ৩০থেকে ৪৫ ইঞ্চি লম্বা ডানা নিয়ে এরা ঘন্টায় ১৪১ কি.মি বেগে উড়তে পারে।

 

রেড-ব্রেস্টেড মার্গ্যান্সার

এদেরকে বলা হয় ডাইভিং ডাক। এদের ডানা ২০ থেকে ২৪ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। মাথার উপরে পালকের ভিন্ন বিন্যাস তাদের আলাদা বৈশিষ্ট  দান করেছে। এরা আকারে বেশ বড়। আকাশে উড়বার আগে তাদের লম্বা গলাটা সবার আগে উঁচিয়ে দেয়, তারপর ডানা তোলে। ঘন্টায় এরা ৩০ কি.মি গতিতে উড়তে পারে।

 

হোয়াইট-রাম্পড সুইফট

আকারে এরা ছোট হলেও গতি কিন্তু কম না। দুদিকে ছড়ানো মাছের কাটার মতো ছোট লেজ আর লম্বা দুটি ডানা নিয়ে তারা দিব্বি তিড়িং বিড়িং করে বেড়ায়। পা খুবই ছোট, খুব দরকার না হলে তারা মাটি একেবারেই ঘেঁষতে চায়না। আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চল, মরক্কো ও স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে এদের দেখা মেলে। তবে ঋতুভেদে তারা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গা পরিবর্তন করে থাকে। ঘন্টায় ১২৪ কি.মি পর্যন্ত হোয়াইট-রাম্পড সুইফট উড়তে পারে।

 

ক্যানভাসব্যাক

ডাইভিং ডাক প্রজাতির পাখি ক্যানভাসব্যাক। উত্তর আমেরিকার দিকে এদের দেখা পাওয়া যায়। পানিতে তাদের শরীরের আকারকে মনে হয় উপবৃত্তাকার মনে হয়। তাদের ডানা ৩১ থেকে ৩৫ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে থাকে, যার সাহায্যে তারা দুর্দান্ত উড়ে বেড়াতে পারে। ঘন্টায় ১১৭ কি.মি গতিতে তারা উড়তে পারে। আকাশে দল বেঁধে এরা “ভি” আকৃতিতে উড়ে বেড়ায়।

 

ম্যালার্ড

নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ব্রাজিল, উরুগুয়ে, চিলি, কলম্বিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে এদের দেখা মেলে। ছেলে ম্যালার্ডের মাথার দিকটা গাঢ় সবুজ, ঠোঁটের দিকটা হলুদ। মেয়ে ম্যালার্ডের রং বাদামি আর কমলার মিশেলে হয়ে থাকে। এদেরকে অনেকেই ড্যাবলিং ডাক বলে। ঘন্টায় ১০৫ কি.মি উড়তে পারে এই ম্যালার্ডরা।

 

এছাড়াও আইডার ডাক, পিন টেইল, জায়ার ফ্যালকন, গ্রে হেডেড এলবাট্রস পাখিরা দ্রুত বেগে উড়ার জন্য অন্যতম।

 

//মাও
LIVE
Play
ছাত্র সংগঠনগুলোর আয়ের উৎস কী?
হলুদের গুণাগুণ
ভয়ঙ্কর গ্যাস এসএফ-সিক্স
বোকা পাখি ডোডো