কলাম

প্রতিরোধ করো!

মেঘমল্লার বসু

আমাদের সমসাময়িক মানুষদের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন যাদেরকে আমি অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করি।

 

সেই খুব ছোট্ট লিস্টের একটা নাম জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। কী একটা জীবন, কী একটা লড়াই !

 

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ আজকে আটক হয়েছেন। ইকুয়েডোরিয়ান অ্যাম্বেসি তাকে ব্রিটিশ পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে ব্রেক্সিটকে সরিয়ে রেখে (এমনিতেও অক্টোবর পর্যন্ত ব্রেক্সিট নেগোসিয়েশনের সময় পাওয়া গেছে) অ্যাসাঞ্জ বিষয়ে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

 

অ্যাসাঞ্জকে কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তুলে দিবে, নাকি নিজেদের দেশে বিচার করবে।

 

অ্যাসাঞ্জ করেছেনটা কী ?

শাসকরা বিশ্বজুড়ে আমাদের সাথে কী কী করে সেসব বিষয়ে আমাদেরকে স্রেফ সচেতন করে দিয়েছেন।

মতাদর্শ ও ভৌগোলিক অবস্থা নির্বিশেষে আমাদের শাসকরা আমাদেরকে গত অর্ধ-শতাব্দী ধরে নানা ভুগিজুগি বুঝায়ে যাচ্ছে। একদিকে আমাদের সামনে যুদ্ধের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে কোনো একটা দেশের মানুষের গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষার কথা, অন্য দিকে দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলেই আলোচনার এজেন্ডা হয়ে যাচ্ছে তেলের কোম্পানি আর অস্ত্রব্যবসায়ীদের লাভের হিসাব।

 

বিশ্বের বহু সরকারকে এই উন্মাদ-প্রায় হ্যাকার প্রায় উলঙ্গ করে ছেড়ে দিয়েছে পাবলিকের সামনে। এমন সব নথি ফাঁস করে দিয়েছে যাতে স্যুটেড-বুটেড ভালোমানুষীর আড়ালে থাকা নিকৃষ্ট ইতর চেহারাগুলো বের হয়ে এসেছে।

 

এখন তো শাসক তার শোধ নিবেই !

 

অ্যাসাঞ্জের অ্যাসাইলাম কেন ইকুয়েডোর সরিয়ে নিলে এটা বুঝতে হবে। স্পেন-ইকুয়েডোরের সম্পর্কটা অনেকটা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মতো। মানে দেশের মানুষের মনে যাই থাকুক, শাসক পর্যায়ে, ফরেন পলিসির প্রশ্নে পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। এখন ভাবেন, বাংলাদেশী রাজনৈতিক অ্যাসাইলাম পাওয়া একটা লোক ভারতের সরকারের বিভিন্ন গোমর ফাঁস করে দিচ্ছে।

বা অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যুতে ভারত সরকারের যাবতীয় নৃশংসতার নথি ইন্টারনেটে দিয়ে বেড়াচ্ছে !

 

অ্যাসাঞ্জ ঠিক এই কাজটাই করেছেন। ইকুয়েডোরের অ্যাম্বেসিতে বসে তাদের খেয়ে-পরে তাদের প্রভাবশালী মিত্র স্পেনের গুষ্টি উদ্ধার করেছেন।

 

কাতালুনিয়ার স্বাধীনতাকামী নেতাদের বীরত্বের বর্ণনা দিয়েছেন। তথাকথিত গণতান্ত্রিক একটা ‘সভ্য’ দেশ স্পেন, তার অঙ্গরাজ্য কাতালুনিয়াকে ঠিক কী রকম গণতন্ত্র এলাউ করেছে তা সম্বন্ধীয় যাবতীয় প্রাপ্ত ডকুমেন্ট ইন্টারনেটে ছেড়ে দিয়েছে জুলিয়ান ।

 

তাহলে প্রশ্ন হলো এই আহাম্মকিটা ভদ্রলোক করলেন কেন ?

আমার-আপনার কাছে দুনিয়ার কোনো তথ্য নাই, তাও অ্যাসাঞ্জ-প্রদত্ত ডকুমেন্টের বদৌলতে আমরাও জানি যে এই কাজ করলে কোনো নিস্তার নাই, উনি কি নিজে বোঝেন নাই ?

 

বুঝেছেন। তবে উনি মনে হয় ব্যাপারটাকে এভাবে দেখেন না। চে এর একটা কথা ছিল যার মাজেজা হলো অন্যায়কারীর পরিচয় যা-ই হোক না কেন, প্রত্যেকটা অন্যায়েই যদি তোমার ভিতরটা রাগে অস্থির হয়ে ওঠে, তবেই কেবল তুমি আমার কমরেড !

কমরেড অ্যাসাঞ্জ ডান-বাম, লিবারেল-রক্ষণশীল স্পেকট্রামের ঊর্ধ্বে।

 

আটক হওয়ার আগ মুহূর্তে তিনি চিৎকার করে বলেছেন “প্রতিরোধ করো”।

 

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
LIVE
Play
প্রাণি নির্যাতন- মানুষ নির্যাতনের প্রাথমিক পর্যায়
প্রতিরোধ করো!
আজি হতে শতবর্ষ আগে
শবে মিরাজের উদ্দেশ্য কি?