বাংলাদেশ, শীর্ষ খবর

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

যান্ত্রিক এই নগরীতে যে কোন সমস্যায় নগরবাসী আজও অসীম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন মানুষটিকে। তিনি ভালোবেসেছিলেন প্রিয় নগরকে। ঘোঁচাতে চেয়েছিলেন নগরীর দুঃখগাঁথা। ব্যবসায়ী নেতা, জনপ্রতিনিধি, উপস্থাপক-সব ক্ষেত্রেই ছিলেন সফল।

বহু পরিচয়ের ভিড়ে, তিনি হয়ে উঠেছিলেন মানবিক বোধসম্পন্ন এক গুণীজন। বলছি একজন সৎ রাজনীতিবিদ ও সত্যিকারের নায়ক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের কথা। তাকে হারানোর মতো কঠিন সত্য, এখনো মেনে নিতে চায় না কেউ।

স্বপ্নবাজ মানুষ আনিসুল হকের জন্ম ১৯৫২ সালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। শৈশব কেটেছে ফেনীর সোনাগাজীতে, নানার বাড়িতে। অর্থনীতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বহুমাত্রিক জীবনে সফল এই মানুষটি ছিলেন চৌকশ উপস্থাপক, উদ্যমী ব্যবসায়ী, প্রজ্ঞাবান একজন নেতা। বাংলাদেশের মানুষ যার কথা শুনতো মন্ত্রমুগ্ধের মতো।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান আনিসুল হক। তার উপস্থাপনায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় আনন্দমেলা, অন্তরালে ও সবিনয়ে জানতে চাইয়ের মতো সব অনুষ্ঠান।

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে, বিটিভিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছিলেন তিনি।

এক সময় জড়িয়ে পড়েন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদী গ্রুপ। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে বিজিএমইএ এবং ২০০৮ সালে এফবিসিসিআই-এর সভাপতি হন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক।

সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজকে নেতৃত্ব দেন ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠাগুলোর সংগঠন বিআইপিপি-এর সভাপতিও ছিলেন তিনি।

ঢাকার প্রকৃত বয়স মাত্র ৪০০ বছর, না কি ৬০০ না ৮০০ তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ঢাকার সবচেয়ে জনপ্রিয় সফল মেয়র নিয়ে কোন সংশয় নেই নগরবাসীর।

হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এই শহরের মানুষ যখন হতাশায় নিমজ্জিত, তখনই পর্দায় আগমন সুপারম্যান এক মেয়রের। ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র নির্বাচিত হন স্বপ্নবাজ এই মানুষটি। তার স্বল্প সময়ের নেতৃত্বে, বদলে যেতে থাকে রাজধানী ঢাকার চেহারা।

তিনি বলতেন, সময়ের হিসেব আমরা জানি না। শেষে হার মানেন দুরারোগ্য এক ব্যাধির কাছে। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর, লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে।

মানুষ সংঘবদ্ধ হলে, পৃথিবী বদলে যেতে পারে। সেই বিশ্বাসে ঢাকাকে বদলে দেয়ার নায়ক বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তাই মেয়র আনিসুল হকের জনপ্রিয়তার পারদ মৃত্যুর পর বেড়েই চলেছে।

ওপারেও ভাল থাকুন মানবিক ঢাকার রূপকার।

শাহনাজ শারমীন/ফই/শাই/

LIVE
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!