বাংলাদেশ

ফেঁসে যাচ্ছেন জাবি উপাচার্য?

কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে পদ ছাড়তে হয়েছে। একই অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ঘটনার সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এমনকি অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপাচার্যকে পদ থেকে সরে যেতে হতে পারে।

রবিবার ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে টাকা ভাগাভাগির বিষয়ে কথা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গোপনভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাবি উপাচার্য একাধিকবার ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে আছে। ছাত্রলীগের দুই নেতাকে অব্যাহতির ঘটনার পর এখন উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলা হচ্ছে।

কমিশনের বিষয়ে জাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নয়। সারাদেশে আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে। অনেক শিক্ষক বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না। অনেক শিক্ষক এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সমলোচনা করছে।

কি আছে ফোনালাপে?

কথপোকথনের শুরুতেই গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘অন্তর টাকা নেয়ার সময় ছিলো কে কে? উত্তরে অন্তর নামে একজনকে বলতে শোনা যায়- ‘জুয়েল ভাই, চঞ্চল ভাই, আর সাদ্দাম ভাই ছিলো।

রাব্বানী প্রশ্ন করেন, ‘টাকাটা দিছে কোন জায়গায় বসে?’ অন্তর বলেন, ‘ম্যামের বাসাতেই … সাদ্দাম ভাই আপনার সাথে কথা বলবে এইযে আমার পাশে আছে।’ রাব্বানী বলেন, ‘দাও দাও’

এরপর সাদ্দাম আর রাব্বানীর কথপোকথনে উঠে আসে টাকা প্রদান ও ভাগ বাটোয়ারার বিষয়। সাদ্দাম জানান, চাঁদা সংক্রান্ত সেই মিটিংটি হয়েছিলো উপাচার্যের বাসায়। ওই মিটিংয়েই তাদের এক কোটি টাকা ভাগ করে দেন উপাচার্য। কে কত পাবে সেটাও উপাচার্য ঠিক করে দেন। পরে সেই টাকা তিনি হলে পৌঁছে দিয়েছেন।

ঠিকাদারদের সাথে কাজের ভাগ বাটোয়ারা কে করেছে? রাব্বানীর এমন প্রশ্নের উত্তরে সাদ্দাম বলেন, ‘তার ছেলে, তার পিএস সানোয়ার ভাই, পিডি আর তার হাসবেন্ড। এই চার জন।’

রাব্বানীর সঙ্গে এই ফোনালাপের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাদ্দাম বলেন,‘তিনি সেন্ট্রাল ছাত্রলীগের সেক্রেটারি বানাইছে। তার কথা শোনা আমাদের দায়িত্ব ছিল। অনেক কথাই তার সাথে হয়েছে। আগে পরে অনেক কথাই হয়েছে। আগে পরের কথাও তো জড়িত। সে সেন্ট্রাল সেক্রেটারি সে যা বলতে বলছে তাই বলছি, যা করতে বলছে তাই করছি। এই ফোন কলের আগে পরেও ফোন কল ছিল। সে তো এখন ‘এক্স’। আমি আসলে কোন কথার প্রেক্ষিতে এসব বলছি মনে নেই। মনে করে জানাবো।’

এই ফোনালাপের প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অডিওতে আমি টাকা দিয়েছি এমন গল্প ফাঁদছে। আমার সাথে টাকার কোনো দেখা হয়নি। এই মিথ্যাটা সত্য করার দায়িত্ব আমার না। ওরা করুক। আর ওরা তো বলতেই পারে। সাদ্দাম বলতে পারে রাব্বানীকে যে উপাচার্য আমাদেরকে টাকা দিলেন বলে আমরা টাকা পেলাম। রাব্বানীর যেহেতু পদ নেই এটা ষড়যন্ত্র থেকে সে এসব বলাতে পারে। কিন্তু নিশ্চিত থাকেন আমরা বাসায় কোনো টাকা পয়সার কোন কথাই বলিনি, আনিওনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার ‘৪ থেকে ৬ শতাংশ‘ চাঁদা জাবি উপাচার্যের কাছে দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এই অভিযোগ যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও। পরে এমন নানা অভিযোগে শনিবার রাতে ছাত্রলীগের পদ থেকে শোভন ও রাব্বানীকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাদের জায়গায় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে স্থান পেয়েছেন আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লেখক ভট্টাচার্য।

LIVE
Play
গাণিতিকভাবে সবচেয়ে নিখুঁত সুন্দরী বেলা হাদিদ!
স্পেনের জানা-অজানা
টিকটকের মধুবালা
ফোর্বসের তালিকায় ২০১৯ সালে ভারতের শীর্ষ ধনী