ফিচার

বডি শেমিং-অন্যকে অসম্মান কেন?

আশা জাহিদ
গবেষক, মনের বন্ধু

“আপনি এতো মোটা হয়ে গেলেন কেনো”

“আপনার গায়ের রঙ একটু ফরসা হলে জামার রঙটা মানিয়ে যেতো”

“আপনার ওয়াইফ তো আপনার চাইতে লম্বা”

এভাবেই আমরা অনেক কথা বলে ফেলি। কখনো কারো গায়ের রং, কারো শরীরের আকার কিংবা কোন অভ্যাস নিয়ে। আমরা ভাবিনা ছোট্ট এ বাক্যগুলো সেই মানুষটির মনের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব কথা শুনতে শুনতে সে এক সময় নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় নিজের অজান্তেই। মনের ভেতর তৈরি হয় বিষণ্ণতা, যা মানসিক অসুস্থতায় গিয়ে ঠেকে। নেতিবাচক এই আচরণগুলোকেই বলা হয়  বডি শেমিং।

অনেক পরিসংখ্যানে জানা যায়, মানুষকে প্রতিনিয়ত অসম্মান করা হলে তারা আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। ২০১৮ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯৪ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে বডি শেমিংয়ের শিকার হয়। যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৮৪ শতাংশ। এমনকি ৬০ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের অবস্থান নিয়ে খুব লজ্জা বোধ করেন বলে যুক্তরাজ্যের এক রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছে।

বডি শেমিং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। যা সামাজিক সম্পর্কগুলোকে দুর্বল করে দেয়। এমনকি দাম্পত্য জীবনকেও ভঙ্গুর অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন মানুষ নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে লজ্জা বোধ করেছেন। নিজের শারীরিক গড়ন নিয়ে হতাশা কাজ করে ৩১ শতাংশ কিশোর এবং ৩৭ শতাংশ কিশোরীর মধ্যে।

যেভাবে বডি শেমিং প্রতিরোধ করবেন

১.

নিজের অস্বস্তির কথা জানান। বারবার বলুন। যারা আপনাকে অসম্মান করে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন। বোঝাতে না পারলে আস্থা রাখেন এমন কারো সহায়তা নিন। তাও যদি না পারেন তাহলে তার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

২.

জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করুন। অন্যদের নেতিবাচক মন্তব্য কখনোই আপনার মনকে যেন নিয়ন্ত্রণ না করে সেদিকে খেয়াল রাখুন। যোগ ব্যায়াম করুন, নিজের শরীরের যত্ন নিন, ইতিবাচকভাবে নিজের সামাজিক অবস্থান এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন।

৩.

পরিবারের বয়স্কদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলুন। ছোটরা যেন নেতিবাচক এই অভ্যাস না শিখতে পারে তার দিকে বিশেষ জোর দিন।

৪.

স্কুলে আপনার সন্তান বডি শেমিংয়ের শিকার হলে শিক্ষকদের পরামর্শ নিন। ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে শিক্ষকদের সাথে কথা বলুন, সচেতন করুন।

সবশেষে, যে যেরকম তাকে সেভাবে মেনে নিতে না পারার ব্যর্থতাকে অন্যদের উপর চাপিয়ে দিবেন না। বরং একটি সুন্দর-সুস্থ সমাজ গঠনের জন্য ‘অসুন্দর’ চিন্তাগুলোকেই দূর করা উচিত, যারা নিজের চেষ্টায় ‘অসুন্দর’ চিন্তা দূর করতে পারবেন না তাদের জন্য কাউন্সেলিং  জরুরী।  

LIVE


নিজের মৃত্যু কামনা করছে শিশুটি!
যেভাবে বাড়াবেন আত্মবিশ্বাস
মিনি মাফলারম্যান ও একজন অরবিন্দ কেজরিওয়াল
টাটকা রাখুন মশলাপাতি