বাংলাদেশ, শীর্ষ খবর

বাংলাদেশের ‘দাউদ ইব্রাহিম’ কানাডার ব্যবসায়ী?

বাংলাদেশে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিম বলা হতো খোন্দকার তনভির ইসলাম ওরফে জয়কে। ডজন ডজন খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণ- হেনো মামলা নেই, যা তার বিরুদ্ধে দায়ের হয়নি। বহু বছর ধরেই তিনি লাপাত্তা। অবশেষে ২০০৫ সালে ইন্টারপোলের দারস্থ হয় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক এই পুলিশি সংস্থা অনুরোধ পেয়ে জারি করে ‘রেড কর্নার নোটিস’।

এতো বছর ধরে চলতে থাকে খোঁজ। বিশ্বজুড়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়িয়েও হদিস মিলছিলো না।

সম্প্রতি কানাডার এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার মিল দেখা যায়। চেহারা, জন্মতারিখ, বাবার নাম এমনকি স্ত্রীর নামও তাদের এক। দুজনেরই দুই পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছে। নাম তার তারেক রানা। বাংলাদেশের গোয়েন্দারা আর ইন্টারপোলও নিশ্চিত, এই তারেক রানাই হচ্ছেন বাংলাদেশের সেই লাপাত্তা ‘দাউদ ইব্রাহিম’ খোন্দকার তনভির ইসলাম ওরফে জয়।

তারেক রানা অবশ্য দাবি করে আসছেন, তিনি কিছুতেই বাংলার ‘দাউদ ইব্রাহিম’ হতে পারেন না। কিন্ত, কানাডা থেকেও তিনি এখন লাপাত্তা। এতে এতোদিন কিছুটা সন্দেহ হয়তো ছিলো, কিন্তু, এখন তা নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে যে, তিনিই সেই ‘উনি’।

কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা এই বিশেষ খবর দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ডন’ তনভির কলকাতা থেকে কানাডা যান ২০১৪ সালে। তখন থেকেই সেদেশে ব্যবসা করছিলেন তারেক রানা নামে। এখন তিনি কোথায়, কে জানে?

২০০৫ সালে বাংলাদেশ যখন ইন্টারপোলকে অনুরোধ জানায়, তখন জয়ের মাথার দাম ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছিলো। বলা হয়, তখনকার কুখ্যাত সেভেন স্টার গ্যাংয়ের প্রধান ছিলেন জয়। ভারতের মুম্বাইয়ের কুখ্যাত আন্ডারগ্রাউন্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের মতো, জয়ও ছিলেন তেমনই এক অপরাধজগতের চালক। তাই, তাকে বাংলাদেশের দাউদ ইব্রাহিম বলা হতো।

বলা হয়, জয়কে মোটা অংকের চাঁদা না দিলে খুন, অপহরণসহ নানান বিপাকে পড়তে হতো ব্যবসায়ীদের। আর এই চাঁদা আদায় করতো ‘সেভেন স্টার গ্যাং’।

পুলিশের দাবি, ২০০৬ সালের ১৪ মে জনশক্তি রপ্তানিকারক সংস্থা ‘তুর্কি অ্যাসোসিয়েট’-এর মালিকের কাছে ৮ লাখ ডলার চেয়ে ফোন করেন জয়। না দেয়ায় ওই সংস্থার অফিসে ঢুকে ৬ জনকে গুলি করে খুন করে জয়ের লোকজন। জয় তখন সিঙ্গাপুর থেকে ফোন করে টাকা চেয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।

এ রকম একের পর এক খুনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শোনা যায়, এখনো ঢাকায় জয়ের দলবল চাঁদা তোলে।

তিনি না কি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে জয়ের নামেও নিজেকে পরিচয় দিয়ে চাঁদা চেয়েছেন।

তারেক রানা নামে ব্যবসা করতেন কলকাতায়। ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন সিআইডির হাতে। মামলা হয় ৫টি। তখন তাকে দেশে ফেরাতে ভারতকে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। কিন্তু, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই জামিন পেয়ে উধাও হন জয়।

অবশেষে ২০১১ সালে ১০ বছরের পর্যটন ভিসায় কানাডায় যাওয়া তারেক রানা নামের একটি ব্যক্তির খোঁজ মেলে। যিনি কানাডার টরোন্টোরে শহরতলি আয়াক্সে প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে। তার দাবি, কলকাতায় জন্ম থেকে তার বড় হওয়া। কলকাতাতেই সব।

বাংলাদেশি গডফাদার জয়ের সঙ্গে তার চেহারার মিল খুঁজে পায় কানাডার পুলিশও। ভারতের গোয়েন্দারাও ছবি দেখে শুরুতেই তাকে শনাক্ত করেন।

কিন্তু, কিভাবে ভারত থেকে জামিন পেলেন জয়, কিভাবে দেশে ছেড়ে কানাডা যেতে পারলেন, তার জবাব নেই কারোর মুখেই, বলছে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন।

ফই/শাই/ফই

LIVE


মোবাইল-টিভিতে চোখ, কতটা ক্ষতি হচ্ছে শিশুর!
কেন নেবেন কাউন্সেলিং সেবা?
টেইলর সুইফটের প্রতিদিনের রুটিন
আমাজন রেইন ফরেস্টের নিধন বেড়েছে ৮৫ শতাংশ