কলাম

‘বিএনপির মৌসুমীরা’ আওয়ামী লীগে মৌসুমী পাখি!

জববার হোসেন

মৌসুমী, পূর্ণিমা, কেয়া, শাহনূর, তারিন, সুইটি, বিজরী বরকতুল্লাহ -এমন অনেকেই ঘোর বিএনপি সমর্থক ছিলেন। কেউ কেউ জাসাস এ সক্রিয় সদস্য ছিলেন, অনেকে এখনও সদস্য। অনেকেরই সখ্য ছিল তারেক রহমানের সঙ্গে। যাতায়াত ছিল হাওয়া ভবনে। নৌকার পালে যখনই হাওয়া লাগলো, হাওয়া বইতে শুরু করলো, তখনই এরা ‘জিন্দাবাদ’ ছেড়ে, ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বাংলা’, ‘নৌকা’ ‘নৌকা’ করতে লাগলো।

 

সবচেয়ে অবাক হয়েছি, এক সময়ের নায়িকা মৌসুমীর আচরণে, জিয়ার আদর্শের এই সৈনিক, জাসাস কর্মী, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনে রীতিমত তাক লাগিয়েছেন, নায়িকাসুলভ চমক দেখিয়েছেন।

 

তবে দু’একদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারের ক্লিপ দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি, চমকে উঠেছি! এত এলোমেলো কথা একজন কি করে বলেন? কথার সঙ্গে কাজের, কাজের সঙ্গে কথার কোনও মিল নেই।

 

সেন্স অব হিউমার নামের একটি অনুষ্ঠানে মৌসুমী বলেছেন, তিনি রাজনীতিতে জড়াতে চান না, রাজনীতি বোঝেন না। অনার করে কেউ কোথাও তাকে একাধিক বার না ডাকলে তিনি কোথাও যান না। কেউ চাইলেই যে তাকে পেয়ে যাবেন -এমনও নয়। কী বলতে চান তিনি? কী বোঝাতে চান? আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে, ‘বিএনপি’র মৌসুমী’কে ডাকলো কে? তারা কে বা কারা? জড়াতে চান না, অথচ জড়াচ্ছেন। তবে কী তিনি বাধ্য হচ্ছেন? তাকে বাধ্যই বা করছে কারা? মৌসুমীই জানেন আওয়ামী লীগে কার সঙ্গে, কাদের সঙ্গে তার সখ্য, যারা প্ররোচিত করছেন, উৎসাহিত করছেন তাকে আওয়ামী লীগে আসতে, অথচ তিনি চান না।

 

মৌসুমীর স্বামী ভদ্রলোকটি আরও এককাঠি সরেশ। তিনিও একসময় নায়ক ছিলেন। তিনি খালেদা জিয়াকে যেভাবে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ বলেছেন তা যতটা শ্রুতিকটু তার চেয়ে অনেকবেশি মাত্রায় আইনগতভাবে অন্যায়। দ-িত খালেদা জিয়াকে, ‘সাবেক’ না বলে বারবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি। কথা শুনে মনে হচ্ছিল, খালেদা জিয়াকে ‘সাবেক’ বলতে, ভাবতে এই স্বামী-স্ত্রীর কোথায় যেন বাঁধে!

 

শুধু তাই নয়, জনমানুষের রাজনীতিকে রীতিমত অসম্মানও করেছেন তিনি। জাসাসের সঙ্গে, বিএনপি’র সঙ্গে মৌসুমীর সখ্য সম্পর্ক অনেক পুরোনো খবর। মূলত ড্যান্ডি ডাইংয়ের বিজ্ঞাপনে মডেল হবার পর থেকেই মৌসুমীর এক ধরনের অফিসিয়াল যুক্ততা বেড়ে যায় বিএনপির সঙ্গে।

 

সাক্ষাৎকারে রাজনীতি অংশের আলোচনার পুরোটা জুড়ে মৌসুমী যুক্তিহীনভাবে কথা বলেছেন। শিল্পীদের রাজনৈতিক আদর্শে তিনি বিশ্বাস করেন আবার করেন না! ভীষণ এলোমেলো! বুঝতে পারছি না, বাজারমূল্যের শূণ্যতা, বয়স হয়ে যাওয়া, নাকি অন্য কোন গোপন বেদনা -এমন এলোমেলো কথার জন্য দায়ী!

 

ভুলে গেলে চলবে না, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে। মনে রাখতে হবে ’৭৫ এর পরের দিনগুলোর কথা। আন্দোলন সংগ্রামের কথা। ক’জন ছিল সেদিনগুলোতে শেখ হাসিনার পাশে। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎবার্ষিকীর খবর প্রকাশিত হত দৈনিকের ভেতরের পাতায়, এক কলাম। আজকে সেলফি তোলার লোকের অভাব নেই। গণভবনে শুভাকঙ্খীদের উপচে পড়া ঢল। এই স্রোতে যারা, ঢলে যারা -তারা সবাই কী বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, জয় বাংলায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে?

 

দেখুন ঃ শেখ হাসিনার ভক্ত নায়িকা মৌসুমী

 

ক’দিন আগেও জিয়া! জিয়া! তারেক! তারেক! শ্লোগান দেওয়া, ভাইয়া বলে ফেনা তোলা অনেকেই এখন আওয়ামী লীগ। শুধু মৌসুমী কেন, এক সময়ের বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে সক্রিয় অমিত হাসান, জাহিদ হাসান, রবি চেীধুরী, এসডি রুবেল, মীর সাব্বির,  শহিদুল আলম সাচ্চু এমনকি নায়িকা মৌসুমীর সাক্ষাৎকার নেওয়া শাহরিয়ার নাজিম জয়ও বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

 

আওয়ামী লীগ সেই দল নয় যে ভাড়াটে লোক এনে নৌকা বোঝাই করতে হবে। শেখ হাসিনা সেই নেত্রী যিনি এক মুহুর্তের জন্যও আদর্শচুত হননি, বাংলার মাটি মানুষকে ভালবেসে জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। হারতে হারতেই জিতে গেছেন জীবনে।

 

এই মৌসুমীদের, এই ছদ্মবেশীদের আজকে অনুপ্রবেশের সুযোগ দিলে এরাই কাল যে কোন সংকটে, দুঃসময়ে নওশাবা হবে, ফারজানা ব্রাউনিয়া হবে।

 

সর্বনাশ ডাকবে দলের, দেশের।

 

লেখক : সম্পাদক, আজ সারাবেলা। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, মিডিয়াওয়াচ। পরিচালক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন। সদস্য, ফেমিনিস্ট ডটকম, যুক্তরাষ্ট্র।
*যাবতীয় তথ্য ও মন্তব্যের জন্য লেখক দায়ী
নাগরিক টিভির YouTube Channel- এ খবর, নাটক, টক শো দেখতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।
LIVE
Play
প্রাণি নির্যাতন- মানুষ নির্যাতনের প্রাথমিক পর্যায়
প্রতিরোধ করো!
আজি হতে শতবর্ষ আগে
শবে মিরাজের উদ্দেশ্য কি?