20 C
Dhaka
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪
শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা নিয়ে আবারো শঙ্কা

বিশেষ সংবাদ

- Advertisement -

শুভ্র শচীন, খুলনা

সরকারি তথ্য মতে, আগে ছুটিরদিনে সুন্দরবনে পর্যটক হতো এক থেকে দেড় হাজার। বর্তমানে পর্যটকদের সংখ্যা নেমে এসেছে ৩০০ থেকে ৪০০ জনে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছিলেন মোট ২ লাখ ১৬ হাজার পর্যটক। ওই অর্থবছরে সুন্দরবন থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিলো ৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। তবে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনকেন্দ্রীক পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটনের মৌসুমেও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীলতা তৈরির আশংকায় সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অনেকটা অলস সময় পার করছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা। এর প্রভাবে গত প্রায় ৩ মাস ধরে স্থানীয় হোটেলসহ অন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি কমেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সুন্দরবনের প্রতি প্রায় সব দেশের মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি বিশ্বের সর্ববৃহৎ এ শ্বাসমূলীয় (ম্যানগ্রোভ) বন খুব ভোরে এক রূপ, দুপুরে অন্যরূপ, পড়ন্ত বিকেলে এক রূপ এবং সন্ধ্যায় আরেক রূপ ধারণ করে। প্রতিবছরই এই বনের অপার সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকরা আসেন। সুন্দরবনের মনোরম দৃশ্য উপভোগের অপরিহার্য অনুসঙ্গ নৌকা। তবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সুন্দরবন ভ্রমণ বেশ ব্যয়বহুল হওয়ায় পর্যটকরা বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর (পর্যটকদের সহযোগী) প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। ট্যুর অপারেটররাই বন বিভাগের কাছ থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের অনুমতিসহ সবকিছুর দায়িত্ব নেয়। এতে খরচও কম হয়। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা ও রাজধানী ঢাকাতেও রয়েছে এমন শতাধিক ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান। ট্যুর অপারেটরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে পর্যটনের মৌসুম শুরু হয় অক্টোবরে, চলে মার্চ মাস পর্যন্ত। এই ছয় মাসের ব্যবসার জন্য এ খাতের ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকেন বাকি ছয় মাস। ২০২২ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পর সুন্দরবন ভ্রমণে দেশি পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এসময় বিদেশি পর্যটকও দ্বিগুণ হয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনে। পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল জাহাজের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে, আসন্ন জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের অক্টোবরের শেষের দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল-বিএনপির হরতাল এবং অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে পর্যটনে। একের পর এক পর্যটকদের শিডিউল (সময়সূচি) বাতিল হওয়ায় মাসে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

সুন্দরবনে ট্যুর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন ট্যুরিজমের মালিক এনামুল হক বলেন, তারা অপেক্ষায় থাকেন শীতের আগমণের জন্য। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরুতেই ব্যবসা ধসের মুখে পড়ে। এনামুল বলেন, অনেকে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় না থাকলে ব্যবসায়ীরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন।

- Advertisement -
- Advertisement -

আরও পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বাধিক পঠিত