বাংলাদেশ

ভালোবাসার রঙে রাঙা হোক পৃথিবী

চারটি বর্ণের একটি শব্দ ‘ভালোবাসা’। পৃথিবীর সব আদিখ্যেতা যে এই একটি বাক্যেকে ঘিরে। প্রেম, ভালোবাসা, লাভ ও মোহাব্বাত যে নামেই ডাকা হোনা কেন! মিলবে গিয়ে এক সুতোয়। এর অর্থ যেমন অসীম পাওয়াটাও তেমনি হীরকের হরিণ।

 

‘ভালোবাসা’ শব্দটির ব্যাখ্যা বহু দার্শনিক বহুভাবে দিয়েছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের ব্যাখ্যায় যুক্তির চেয়ে আগেব বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ভালোবাসা একটি মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক।

 

পন্ডিতরা বলেন ‘ভালোবাসাটা’ হচ্ছে একধরনের প্রতিজ্ঞা। আর কবির কবিতায় রয়েছে এর নানা উপমা। ভালোবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের যেমন প্রয়োজন নেই, একটি মুহূর্তই যথেষ্ট। ভালোবাসা দিয়ে মরুভুমিতে ফুল ফোটানো যায়। ভালোবাসা হচ্ছে জীবনের বন্ধু।

 

 

আজ আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি। বিশ্ব ভালবাসা দিবস। দিনটিকে বিশ্ব ব্যাপী ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষক সহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষেরা এই দিনে একে অন্যকে তাদের ভালোবাসা জানায়।

 

বর্তমানে সমগ্র বিশ্বে এই দিনটিকে খুবই ঘটা করে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। এই দিনে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো ভালোবাসার মানুষদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। ভালোবাসা দিবসের এই দিনে প্রিয়জনকে সবাই ফুল ও বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দিয়ে থাকে।

 

তবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এখন থেকে কয়েক বছর আগ পর্যন্তও বিশ্ব ব্যাপী ঘটা করে পালন করা হতো না। এই দিবসটি যুক্তরাষ্ট্র বা পাশ্চাত্য সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমানে এই দিবসটি বিশ্ব ব্যাপী দেশে দেশে আনন্দ উন্মাদনার সঙ্গে পালন করা হয়।

 

আসলে হাজারো দ্বন্দ্ব সংঘাতের এই পৃথিবী টিকে আছে ভালোবাসার টানে। ফাগুন হাওয়ায় ভেসে যাবে ভালোবাসার নৌকা। প্রেমকাতর হৃদয়ের রক্তরাঙা গোলাপটি তুলে দেবে প্রিয়ার হাতে। হিয়ার মাঝে বেজে উঠবে গান, আমি হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল।

 

ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে উৎপত্তি:

২৬৯ সালে ইতালির রোম নগরীতে সেন্ট ভ্যালেইটাইন’স নামে একজন খৃষ্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ছিলেন। ধর্ম প্রচার-অভিযোগে তৎকালীন রোমান সম্রাট দ্বিতীয় ক্রাডিয়াস তাকে বন্দী করেন। কারণ তখন রোমান সাম্রাজ্যে খৃষ্টান ধর্ম প্রচার নিষিদ্ধ ছিল।

 

বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন।

 

এতে সেন্ট ভ্যালেইটাইনের জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই দিন ১৪ই ফেব্রুয়ারি ছিল। অতঃপর ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস ভ্যালেইটাইন’স স্মরণে ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে ভ্যালেন্টাইন’ দিবস ঘোষণা করেন।

 

আজকের দিনে দেশে দেশে হৃদয় আঁকা কার্ড, চকলেটের বাক্স, লাল গোলাপ, ভালোবাসা বার্তা লেখা টি–শার্ট পরা টেডি বিয়ার পুতুল প্রিয় মানুষকে উপহার দেন লোকজন।

 

ভালোবাসা দিবস শুধুই একটি অনুভূতির উদ্‌যাপন নয়, ভীষণভাবে বাণিজ্যিক উদ্‌যাপনও বটে। জাপানে একে রোমান্টিক পুঁজিবাদ বলে বিক্ষোভও করে আসছে কিছু সংগঠন। তবু প্রিয়জনের প্রতি আজ ভালোবাসা প্রকাশ থেমে থাকবে না মানুষের।

 

ফই/হাজা/ফই

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

দ্রুত চুল লম্বা ও ঘন করার সহজ উপায়
পৌষসংক্রান্তি থেকে ‘সাকরাইন’
অ্যালোভেরার যত গুণ
দেশের প্রথম ‘নৌকা জাদুঘর’