ফিচার

ভয়ঙ্কর গ্যাস এসএফ-সিক্স

বিজ্ঞানিদের জানা সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রিন হাউজ গ্যাস সালফার হেক্সাফ্লোরাইড বা এসএফ-সিক্স। এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বৈদ্যুতিক সার্কিট ব্রেকারে। প্রতিবার শর্ট সার্কিট হলে সার্কিট ব্রেকার থেকে একটু এসএফ-সিক্স গ্যাস নিসৃত হয়।

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন শিল্পে, সালফার হেক্সাফ্লোরাইড বা এসএফ-সিক্স গ্যাসের ব্যবহার মাত্রাতিরিক্তি হারে বেড়েছে। বিষাক্ত না হলেও, গ্যাসটি বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য মারাত্মক হুমকি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর ব্যবহার পৃথিবীতে বিপর্যয় বয়ে আনছে। ইউরোপে ক্ষতিকর গ্যাসটি নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু, শিল্পমালিকদের প্রবল আপত্তিতে, ভেস্তে গেছে সেই উদ্যোগ।

শর্ট সার্কিট ও বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় সালফার হেক্সাফ্লোরাইড গ্যাস বা এসএফ-সিক্স। অগ্নিকা- প্রতিরোধে বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে শুরু করে, বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের উইন্ড টারবাইন ও সাব স্টেশনেও ব্যবহার হয় এসএফ-সিক্স। গ্যাসটি অজৈব, রং-গন্ধহীন। আগুনও ধরে না, বিষাক্তও নয়। কিন্তু, বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর এই গ্যাস।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, ২০১৭ সালে ইউরোপের ২৮টি দেশে যে পরিমাণ এসএফ-সিক্স গ্যাস নিঃসৃত হয়েছে, তা এক বছর ধরে ১৩ লাখ গাড়ি থেকে বের হওয়া কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান। গত দুই দশক ধরে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে, এই গ্যাস অন্যতম প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির লিকেজ থেকে বায়ুমণ্ডলে ছড়াচ্ছে এই গ্যাস। বর্তমানে বাতাসে সালফার হেক্সাফ্লোরাইডের পরিমাণ, কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু, বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০৩০ সালের মধ্যে এই গ্যাস বাড়বে ৭৫ শতাংশ।

এসএফ-সিক্স ব্যবহারের পরিমাণ সম্পর্কে জাতিসংঘে প্রতিবছর প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিধান থাকলেও, এর অবাধ ব্যবহার নিয়ে, এখনো নেই কোনো বিধি-নিষেধ। গ্যাসটি নিষিদ্ধ করতে ২০১৪ সালে উদ্যোগ নেয় ইউরোপীয় কমিশন। কিন্তু, শিল্পমালিকদের তীব্র প্রতিবাদে তা ব্যর্থ হয়ে যায়।

পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সালফার হেক্সাফ্লোরাইডের অবাধ ব্যবহার এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, ভবিষ্যতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বিশ্ব।

LIVE
Play
গাণিতিকভাবে সবচেয়ে নিখুঁত সুন্দরী বেলা হাদিদ!
স্পেনের জানা-অজানা
টিকটকের মধুবালা
ফোর্বসের তালিকায় ২০১৯ সালে ভারতের শীর্ষ ধনী