ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেলে উপজেলার ভৈরবা বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া প্রতি শনিবারের মত আজও বিকেল চারটার দিকে ভৈরবা বাজারের নিজ কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি ভৈরবা তেল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ সেখানেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর ওপর হামলা চালায় একই উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোজানুর রহমান সোজার অনুসারীরা। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও রড নিয়ে জিয়ার সঙ্গীদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় জিয়ার সঙ্গে থাকা আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে জিয়া পক্ষের অন্তত ৮জন আহত হন।
অন্যদিকে সোজানুর রহমানের অনুসারীদের দাবি, তাঁরা ভৈরবা বাজারে একটি নির্ধারিত মানববন্ধনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জিয়ার নেতৃত্বাধীন লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে সোজানুর রহমান সোজা গ্রুপেরও ছয় থেকে সাতজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৯ জনকে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে মোস্তফা, শরীফুল, আসাদুজ্জামান ও হাসানুজ্জামানের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোজানুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। এর আগের দিন উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দলীয় কোন্দল থেকেই আজকের এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলীয় নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ দ্বিধা ও গ্রুপিংয়ের ফলেই এমন সংঘর্ষ ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় রূপ নিতে পারে যদি কেন্দ্রীয় নেতারা দ্রুত হস্তক্ষেপ না করেন।
এ বিষয়ে বিএনপির জেলা নেতাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন : ঝিনাইদহের মহেশপুরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত চার

