আন্তর্জাতিক, আলোচিত, বাংলাদেশ

মাত্র ১৩ কোটি টাকায় হয়ে যান দ্বীপের মালিক

বাড়ি কিনতে গিয়ে যদি গোটা একটি দ্বীপের মালিক হয়ে যাওয়া যায়, তাহলে খারাপ হয় না, কি বলেন? হ্যা, এমন সুযোগই পাচ্ছেন স্কটল্যান্ডের ফির্থ অব ক্লাইডে অবস্থিত সাউন্ড অব বুটের উত্তরের এক দ্বীপে।

 

সমুদ্রের নীল জলরাশির মাঝে ছোট্র সবুজ দ্বীপটির নাম ইঞ্চমারনক। এই দ্বীপেই রয়েছে এক বাড়ি, যা হতেই পারে আপনার বাসস্থান।

 

দ্বীপের ওই বাড়ি বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে দুই রিয়েল এস্টেট কোম্পানি। তারা এই বাড়ির দাম ধরেছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে এ টাকায় শুধু বাড়িটিই নয়, কেনা যাবে পুরো দ্বীপই!

সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপে রয়েছে প্রায় আট কিলোমিটার তটরেখা। ৬৬০ একরের এই জমিতে বিশালাকার একটি চার বেডরুমের বাড়ি ছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু ছোট বাড়ি, নিজস্ব ফেরি ও ফেরিঘাট।

 

দ্বীপটিতে আরও রয়েছে বিশালাকার একটি খামার ও চারণভূমি। যেখানে অনায়াসে গবাদিপশু পালন করে দুগ্ধজাতীয় পণ্যের ব্যবসা করা সম্ভব। এছাড়া সমুদ্রতটে বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস ও মাছ ধরার সুযোগ রয়েছে। আরও রয়েছে হেরিং সিগালদের বাসা।

জলপথে মূল ভূখণ্ড থেকে ১০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে এই দ্বীপ।

 

দ্বীপটি ইতিহাসেরও সাক্ষী। ব্রোঞ্জ যুগের কবর থেকে শুরু করে নানা যুদ্ধের চিহ্ন রয়েছে এখানে।

 

১৯৬০ সালে এক ব্যক্তি এই দ্বীপেই খুঁজে পান ব্রোঞ্জ যুগের এক পাথরের কবর। সেই কবরে শায়িত ছিল এক নারীর দেহাবশেষ, যা ‘কুইন অব ইঞ্চ’ নামে পরিচিত। ওই নারীর গলায় ছিল একটি লিগনাইটের নেকলেস এবং হাতে ধরা ছিল চকমকি পাথরের ছুরি। সেই দেহ এখনো রয়েছে ওই দ্বীপে।

 

অষ্টাদশ শতাব্দীতে অনেকবার জলদস্যুদের হাতে আক্রান্ত হয়েছে এই দ্বীপ। পরবর্তীকালে স্কটিশ কমান্ডো এবং ফ্রেঞ্চ কানাডিয়ানরা এই দ্বীপটি যুদ্ধের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করে।

কথিত আছে, স্কটিশ সন্ন্যাসী সেন্ট মারনক এই দ্বীপেই বসবাস করতেন এবং এই দ্বীপে অবস্থিত গির্জাটিও তিনিই তৈরি করেন। সেলটিক ক্রসের বিভিন্ন ভাঙা পাথরের টুকরোও পাওয়া গিয়েছে এই দ্বীপে। এই ক্রসগুলিও প্রাচীন যুগের তৈরি বলে মনে করা হয়। সেলটিক ক্রস সন্তানদের প্রতি খ্রিস্টের অপরিসীম ভালবাসা ও আত্মত্যাগকে বোঝায়। সেন্ট প্যাট্রিক প্রথম এই ল্যাটিন সেলটক ক্রসের ছবি আঁকেন। এরপর আরও সেলটিক ক্রস নানা জায়গায় তৈরি করা হয়। এই ক্রসগুলিকে বিশেষ আশীর্বাদ-ধন্য বলে মনে করা হয়।

 

১৩ শতকে নরওয়ে এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে হওয়া ‘লার্গ’ যুদ্ধে নিহত ব্যক্তিদের কবর দেয়ার জন্য এই দ্বীপ বেছে নেয়া হয়। ১৯ শতকে নেশামুক্তির জন্য অসুস্থদের এই দ্বীপে পাঠিয়ে দেয়া হতো। একসময় অপরাধ জগতের আস্তানাও হয়ে ওঠে এই দ্বীপ।

এককালে এই দ্বীপে বসবাস ছিল ৪১ জনের, কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তারা সবাই প্রায় একই সঙ্গে এই দ্বীপ ছেড়ে চলে যান।

 

১৯৮৬ সালে এই দ্বীপের শেষ বসবাসকারীও বাড়ি বিক্রি করে চলে যান। ১৯৯৯ সালে এক পরিবার এই দ্বীপটি কিনলেও তারা এই বাড়িটিকে ছুটি কাটানোর জন্যই ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি তারাও বাড়িটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে এই দ্বীপ।

 

ফাআ/শাই/ফাআ
LIVE
Play
ছুটিতে ওবামা যে বইগুলো পড়বেন
বাণিজ্যযুদ্ধের লাভ-ক্ষতি
৭০ বছরের পুরোনো ভূতুড়ে ছবির রহস্য!
উসাইন বোল্টের গতির তুলনা!