34 C
Dhaka
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪
spot_imgspot_img

মার্কিন কৃষি প্রতিষ্ঠানের ৮৭ শতাংশে প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ঝুঁকছে মার্কিন কৃষিখাত। বিশ্বের খাদ্য ঘাড়তি মেটাতে এ কৌশল কাজে লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৫0 সালে বিশ্বের জনসংখ্যা আরও ২শ কোটি বাড়তে পারে। বাড়তি মানুষের আহার নিশ্চিতে বর্তমানের উৎপাদন থেকে আরও বেশি উৎপাদন করতে হবে তখন।

কৃষিক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষক সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রে। এতে একদিকে যেমন মুনাফা কম হচ্ছে, তেমনি শস্য উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। বিশ্বে পর্যাপ্ত কৃষি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষক নেই। যুক্তরাষ্ট্রে এ সমস্যা বেশি। চীন এবং ভারতের পর বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদক এ দেশ।

২০২৩ সালে চীন, মেক্সিকো, কানাডা এবং ইউরোপে ১শ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশটি। আমেরিকার প্রায় ২০ লাখ কৃষি খামারে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও তার প্রভাব পড়বে।

বিদ্যমান কৃষকদের বয়স বাড়ছে। একটি কৃষি খামার পরিচালনায় প্রয়োজনীয় কৃষক পাওয়া যাচ্ছে না। আগে কৃষক পরিবারের সন্তানরা বংশপরম্পরায় কৃষি কাজ করলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। নতুন প্রজন্ম এখন ছুঁটছে কম শ্রম এবং অধিক বেতনের চাকুরির দিকে। যাদেরকে কৃষি কাজের জন্য ভাড়া করা হচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশ অভিবাসী।

আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশন এর পরিচালক এমিলি বাকমেন জানিয়েছেন, শ্রম এখন সবথেকে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের গড় বয়স ৬০ বছর। কেনটাকির একটি কৃষিখামারের সঙ্গেই বড় হয়েছেন বাকমেন। সেই খামারে এখনো তার ৭০ বছর বয়সী বাবা কাজ করেন। এ সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা হচ্ছে। কারণ, কৃষক কমছে এবং কৃষকদের মজুরিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ফসলের উৎপাদন কম হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কিছু খামারি আধুনিক প্রযুক্তিকেই আশ্রয় মনে করছেন এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের। রোবট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাতেই সমাধান দেখছেন তারা। মাঠের কাজে এসব প্রযুক্তি সহায়কা ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। যদিও কৃষিক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নতুন নয়। গত ২০ বছর ধরেই প্রযুক্তির সঙ্গে কৃষির যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে শস্য বপনসহ নানা কাজে প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। তবে, গত কয়েক বছর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বেশি বেড়েছে। তথ্য বলছে, ২০২১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮৭ শতাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু করেছে। মার্কিন ফেডারেল সরকারও কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আর্থিক ভর্তুকি দিচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আশ্রয় নেওয়ার পক্ষের যুক্তি; বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ায় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রে পরিচ্ছন্নভাবে যে উৎপাদন হচ্ছে, ৩০ বছর আগে বর্তমানের এই উৎপাদন করতে প্রয়োজন পড়তো আরও ১শ মিলিয়ন একর জমির।

বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে ড্রোন এবং জিপিএস এর ব্যবহার রয়েছে। তবে স্বয়ংক্রিয় ট্রাকটর, কম্বাইন এবং ফসলের কোন অংশের বেশি যত্ন দরকার- এসব বলে দিতে পারে এমন মান নির্ণায়ক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে মনে করেন বাকমেন।

spot_img
spot_img

আরও পড়ুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশেষ প্রতিবেদন