২১/০১/২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
২১/০১/২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমার-আরাকান আর্মির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে চাপ সৃষ্টি করতে হবে : ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং সমাধানও সেখানে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে এবং তাদের দ্রুত রাখাইনে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়। সংকটকে মিয়ানমারের বিস্তৃত সংস্কার প্রক্রিয়ার কাছে আটকানো যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণহত্যা শুরু হওয়ার আট বছর পরও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা অব্যাহত রয়েছে। সংকট নিরসনের উদ্যোগের অভাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক তহবিলের উদ্বেগজনক ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, তহবিল ঘাটতি সমাধানের একমাত্র শান্তিপূর্ণ বিকল্প হলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করা, যা আন্তর্জাতিক সংরক্ষণের চেয়ে কম খরচে সম্ভব।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা সর্বদা নিজ বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশেষত সম্প্রতি সংঘাত এড়াতে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাবাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এই সংকটের শিকার। আমাদের বিশাল আর্থিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত মূল্য বহন করতে বাধ্য করা হচ্ছে। রাখাইন দিয়ে বাংলাদেশে মাদকের প্রবাহসহ অপরাধমূলক কার্যকলাপ আমাদের সামাজিক কাঠামোকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ, যেমন বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে কর্মসংস্থান দেওয়া সম্ভব নয়।

প্রধান উপদেষ্টা বক্তব্যের সমাপনীতে বলেন, বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষা করতে পারে না। আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়ে এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিই। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার অঙ্গীকার জানানো হলো।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ড. ইউনূস সাত দফা সুপারিশ করেছেন। সেগুলো হলো–

প্রথমত, রাখাইনের যুক্তিসংগত স্থিতিশীলতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বাস্তব রোডম্যাপ তৈরি করুন;

দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করতে এবং তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার এবং আরাকান সেনাবাহিনীর ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করুন, যারা সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছেন এবং যারা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন তাদের দিয়ে শুরু করুন;

তৃতীয়ত, রাখাইনকে স্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন একত্রিত করুন এবং স্থিতিশীলতা পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতি স্থাপন করুন;

চতুর্থত, রাখাইন সমাজ এবং শাসনব্যবস্থায় রোহিঙ্গাদের টেকসই একীকরণের জন্য আস্থা তৈরির ব্যবস্থাগুলোকে সমর্থন করুন;

পঞ্চম, যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার সম্পূর্ণ অর্থায়নের জন্য দাতাদের অবদান একত্রিত করুন;

ষষ্ঠত, জবাবদিহিতা এবং পুনরুদ্ধারমূলক ন্যায়বিচার অনুসরণ করুন;

সপ্তম, মাদক-অর্থনীতি ভেঙে ফেলা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জাতিসংঘ মহাসচিবের পূর্ণ সমর্থন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন