মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রোহান (১১) কে ঘুষি মেরে আহত করার অভিযোগ উঠেছে উক্ত বিদ্যালয়ের দপ্তরী আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত রোহান ধানখোলা গ্রামের উত্তর পাড়ার কৃষক রিপন আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম স্কুলের কিছু শিশুকে পরীক্ষার খাতায় সরকারী সীল মারার কাজ করতে বলেন। রোহান অসাবধানতাবশত খাতার সামনের অংশের পরিবর্তে পেছনের পাতায় সীল মেরে ফেলে। এ ঘটনার পর আসিফুল রোহানকে ডান চোখ বরাবর জোরে ঘুষি মারেন, যাতে শিশুটির চোখের কোল ফেঁটে কালচে দাগ পড়ে যায়। ভয়েভয়ে রোহান তখন কাঁদতে থাকে। এরপর আশরাফুল তাকে স্কুল থেকে বের করে দোকান থেকে নতুন খাতা এনে দিতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ।
চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোয়াদ ও জুনায়েদ জানায়, আশরাফুল ইসলাম আমাদের সবার হাতে খাতা দিয়েছিলেন সীল মারতে। রোহানেরটা উল্টো হয়ে গিয়েছিল বলে স্যার তার দিকে রাগ করে ঘুষি মারেন। রোহান কান্না করলেও আশরাফুল তা উপেক্ষা করেন বলে তারা দাবি করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় খেলার মাঠ বাথরুম পরিষ্কারসহ বিদ্যালয়ের আনুষাঙ্গিক কাজও করিয়ে নেন আশরাফুল ইসলাম।
রোহানের বাবা রিপন আলী বলেন, স্কুল শেষে ছেলে যখন ঘরে আসে, তখন দেখি তার চোখের পাশে ঘা ও কালসিটে। জিজ্ঞেস করলে কান্নাকাটি করে বলে দপ্তরি স্যার তাকে ঘুষি মেরেছে। এরপর আবার দোকান থেকে খাতা কিনে আনার জন্য টাকা দিয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে রাতেই আশরাফুল ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে বলে।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ের দপ্তরী প্রায়ই শিক্ষার্থীদের খাতা সীল, খাতা আনা-নেওয়া, ঝাড়ু দেওয়া এমন নানা কাজ করায় এবং ভুল হলে অপমানজনক ভাষায় ডাকে। এর আগেও তাকে নিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভ রয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী যদি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর করেন, তবে এমন ন্যাক্করজনক ঘটনার বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরো শিশু শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের শিকার হবে। তারা দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত এবং দপ্তরীর অপসারণ দাবি করেন। একইসঙ্গে স্কুলের অভ্যন্তরে নিরাপদ ও শিশু-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, গতকাল আমাদের উপজেলা শিক্ষা দপ্তরে মাসিক মিটিং ছিল। মিটিং শেষে বিকেলে স্কুলে এসে জানতে পারি আশরাফুল এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে। বিষয়টি শুনে আমি তাকে বকাঝকা করেছি। শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত।
ঘটনার বিষয়ে আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলতে পারে না। কোমলমতি ছেলে-মেয়েরা ভুল করলে তাদের স্নেহ ও ধৈর্যের সঙ্গে শেখাতে হবে। যদি দপ্তরী আশরাফুল সত্যি এমন কাজ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন : মেহেরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

