বাংলাদেশ

যুদ্ধাহত অনেক মুক্তিযোদ্ধা সহায়তা বঞ্চিত

পাকিস্তানি হায়েনাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য ৭১-এর রনাঙ্গনে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন অসংখ্য মুক্তিসেনা। অনেকেই সম্মুখ যুদ্ধে আহত হয়েছেন। সরকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ব্যবস্থা নিলেও, অনেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরেও, কাটাতে হচ্ছে মানবেতর জীবন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কাল রাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপড় ঝাপিয়ে পড়েছিল পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী। দেশ রক্ষায়, হাতে অস্ত্র তুলে নেয় বীর বাঙ্গালী। ৯ মাসের যুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেকে। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করে এখনও ধুঁকছেন।

৭১-এর রনাঙ্গনে ৮নম্বর সেক্টরে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন লিয়াকত আলী। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বাধীনতার পর থেকেই সরকারী সব সুযোগ-সুবিধাই তিনি পেতেন। কিন্তু, হঠাৎ করেই গেল অক্টোবর মাসে বন্ধ করে দেওয়া হয় তার ভাতা; বের করে দেওয়া হয় বরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট থেকে।

মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগম জানান, সমস্ত দালিলিক প্রমাণ থাকর পরও কেন তিনি বঞ্চিত হলেন, তার জবাব পাওয়ার আগেই, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান যুদ্ধাহত তিনি।

তারা মিয়া। বাক-শক্তি হারানো যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছে ১১ নম্বর সেক্টরে। তার ভাতাও বন্ধ করা হয় হঠাৎ করে। তাকেও বের করে দেয়া হয় সরকারি আবাসন থেকে। পরে, ভাতা চালু হলেও আবাসন আর ফিরে পাননি। বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন করিডোরে।

রণাঙ্গন ঘুরে ঘুরে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়েছেন জাফর উল্লাহ চৌধুরী। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে সরকারকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান জাফর উল্লাহ চৌধুরী।

‘যুদ্ধাহতদের করুণ পরিনতির জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ওপরেই দায় চাপালেন’ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

কারো করুণায় নয়, নিজের অধিকার নিয়ে ভালোভাবে চলতে চান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা।

রাশেদুল কাদির/ফই

LIVE
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!