কলাম

লাল সবুজের পতাকা কন্যা নাজমুন নাহার দেশ দেশান্তে!

আমিমুল হাসান

‘ছোটবেলায় বাড়ির পাশের মাঠে পাখি ধরতে চাইলেই পাখি উড়ে যেত আকাশে। তখন আমার মনে হতো আমিও যদি এভাবে উড়তে পারতাম। তখন থেকেই আমার ইচ্ছা, আমি যদি বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারতাম। ছোট থেকেই আমি মানচিত্র দেখলে তাকিয়ে থাকতাম। কোন দেশের সঙ্গে কোন দেশ লেগে আছে তা দেখতাম। কোথাকার মুদ্রার নাম কি? রাজধানী কোনটা? বড় শহরগুলোর নাম কী। এগুলো দেখে দেখে ভেতরে আকাঙ্খা তৈরি হতো যে একদিন আমি বিশ্বভ্রমণে যাব। এভাবে আমার স্বপ্নই ছিল বিশ্ব ভ্রমণ করা। ছোটবেলায় স্বপ্নের মধ্যেও পাখিদের মতো উড়তাম।’

 

কথাগুলো নাগরিককে বলেছেন নাজমুন নাহার। শৈশবে মনের কল্পনায় আঁকা পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি দেশ ঘুরে ঘুরে দেখেছেন বাংলাদেশের মেয়ে নাজমুন নাহার।

 

প্রথমে ভারত দিয়ে শুরু, এরপর এক এক করে ঘুরেছেন পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও যুগোস্লাভিয়ার  প্রতিটি দেশ! এ ছাড়াও তিনি সড়ক পথে সফর করেছেন ইউরোপ ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ! যেদেশে গিয়েছেন সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের পতাকা। নানান প্রতিকূলতা দুহাতে উড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে। শততম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়েতে। ১২৫টি দেশে উড়িয়েছেন লাল সবুজের পতাকা। কখনো সাহারার মরুভূমি, কখনো বিপদসঙ্কুল আফ্রিকান জঙ্গল আবার কখনো বা সমুদ্রের তলদেশে গিয়েছেন এই ভ্রমণপিপাসু মানুষটি।

 

ফ্ল্যাগ গার্ল উপাধি

পৃথিবীর ইতিহাসে নাজমুনের মতো এমন নারী বিরল যিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে হাজার হাজার মাইল বাই রোডে একা একা ভ্রমণ করছেন নিজ দেশের পতাকা হাতে! দিনে রাতের অন্ধকারকে একাকার করে পর্বতে, সমুদ্রের তলদেশে, দুর্গম জঙ্গলে, বন্যপ্রাণীর পাহাড়ে, অজানা আদিবাসীদের এলাকায় কোথাও যেতে ভয় পায়নি এই ভ্রমণকণ্যা! বুকে তার লাল সবুজের শিহরণ, দুচোখে তার বিশ্বজয়ের নেশা, সে আমাদের লাল সবুজের পতাকা কন্যা নাজমুন নাহার!  একজন নারী হিসেবে একাই শতাধিক স্বাধীন দেশ ঘুরে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাজমুন নাহার।

 

 

তার এই মাইলফলককে সম্মাননা দিয়েছেন জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়েনা! জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর তাকে দিয়েছেন ফ্ল্যাগ র্গাল উপাধি!

 

তারপর ফ্ল্যাগ গার্ল  খ্যাত নাজমুন নাহারকে নিয়ে  বিখ্যাত আন্তর্জাতিক মিডিয়া  ‘জাম্বিয়া ডেইলি মেইল’ এর বিশেষ ক্রোড়পত্রে ৩ জুন ২০১৮ প্রকাশিত হয় একটি ফিচার স্টোরি! সাংবাদিক মার্গারেট সামুলেলা তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন নাজমুনের জীবনদর্শন, বাংলাদেশের পতাকার সম্মান, ভ্রমন মাইলফলকের কাহিনী ও তার মোটিভেশনাল কার্যক্রমের কথা! এছাড়াও বিখ্যাত সাংবাদিক আলেক্স ইয়ামাহের লেখায় ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ লাইবেরিয়ার বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক  ‘নিউ ডেমোক্র্যাট’ পত্রিকার প্রকাশিত হয় নাজমুন নাহারকে নিয়ে একটি ফিচার স্টোরি, সেখানে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার বিশ্ব ভ্রমণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তির জন্য কাজ করার বৃত্তান্ত! নাজমুন বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুন্ন রেখে এভাবেই গৌরবের সাথে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন বিশ্ববাসীর কাছে!

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
LIVE
Play
ভারত সরকার কি মিথ্যা বলছে?
ভারতকে কি হারাতে পারবে নিউজিল্যান্ড?
কতটা কঠিন হবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল?
রাইড শেয়ারিংয়ের অর্থনীতি