মাতৃভূমি বাংলাদেশ; একুশ ও বায়ান্নর ঐতিহাসিক পটভূমি; প্রেম-বিরহের অনুভূতি, উৎসব-আনন্দ; জন্ম-মৃত্যু; বাবা-মা-বোনের আত্মিক বন্ধন; এসিড নিক্ষেপের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা থেকে শুরু করে বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর প্রিন্স মাহমুদের গান।
প্রতিনিয়ত এই গীতিকবি ও সুরকার অনবদ্য সংগীত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সময়কে ছাপিয়ে যাওয়ার। তাঁর এই প্রচেষ্টা তিন দশকের বেশি সময়ের। সুরের ভুবনের দীর্ঘ যাত্রায় গানের কথা-সুর নান্দনিক উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে প্রিন্স মাহমুদ হয়ে উঠেছেন তাঁর কালের শ্রেষ্ঠ সংগীতস্রষ্টা। সে কারণে তাঁর প্রতিটি আয়োজন নিয়ে শ্রোতাদের কৌতূহল চোখে পড়ার মতো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি, যখন প্রিন্স মাহমুদ সামাজিক মাধ্যমে প্রয়াত প্রতিবাদী তরুণ আবরার ফাহাদকে নিয়ে একটি গান তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, ‘আবরার ফাহাদকে নিয়ে একটা গান করেছি। এটি আমার সেরা গানের একটি হতে যাচ্ছে। প্রতিটি লাইন সবার প্রিয় হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনেক বড় আয়োজনে আসছি।’ এই ঘোষণার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে একে পর এক ভক্ত-অনুসারী কৌতূহল থেকে নানা প্রশ্ন করে যাচ্ছেন এই সুরকারকে। যার জবাব দিতে গিয়ে প্রিন্স মাহমুদের কথা থেকে পাওয়া গেছে আরেকটি বড় ও ব্যতিক্রমী আয়োজনের আভাস।
বলেছেন, ‘কেউ কিছু করছে দেখে আমি সেটি করে ফেলি– এই ভাবনা কখনও মনের মধ্যে কাজ করে না। সময় চলে যাচ্ছে এখনই করতে হবে, এমনও নয়। কোনো কিছু শুরু করার আগে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে কাজ করি। বেশ কিছু কমার্শিয়াল কাজ ছেড়েছি শুধু আবরার ফাহাদসহ জুলাই শহীদদের নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করব বলে। জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক, শহীদি মিছিলের নেতা আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনসহ সাতজনকে নিয়ে কাজ করছি আপাতত। তাড়াহুড়ো করছি না। সংবাদের শিরোনাম হতে নয়, নিজের জন্য করেছি। তাড়না থেকে করেছি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বা উপলব্ধি থেকে বুঝি– সব গান গান হয়ে ওঠে না। এই গানগুলো গান হবে, আশা করছি। ভালোবাসায় রাখবেন।’
তাঁর এই কথার সূত্র ধরে যখন আরও কিছু গানের খবর বেরিয়ে এলো তখন জানতে চাওয়া হয়, একক গানের পাশাপাশি অ্যালবামের প্রত্যাশা করা যায় কিনা? এ উত্তরে তিনি বলেন, ‘সবকিছু চূড়ান্ত না করে আগেই কিছু বলতে চাই না। তারপরও কাজ যেহেতু করছি, সেহেতু বলতেই হয়, আগামী বছর শ্রোতাদের কাছে বড় একটি আয়োজন তুলে ধরতে চাই। সেখানে আবরার ফাহাদ ও জুলাইযোদ্ধাদের পাশাপাশি থাকছে একাত্তরের চার মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে তৈরি করা ভিন্ন ধাঁচের গান। বেশ কিছুদিন ধরে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম, গণহত্যা ও বিভিন্ন সংঘর্ষে প্রাণ হারানো শহীদদের নিয়ে কয়েকটি নতুন গানের কাজ করছি। ২৫ মার্চ, ১৯৭১ কালরাতে গণহত্যার শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে পাঁচটি গান ২০০৪-৫ সালে করেছিলাম। সেটা একদম নতুন সাউন্ডে আবারও করছি, যেগুলো শ্রোতামনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলবে বলে আমার বিশ্বাস।’
প্রিন্স আরও জানান, ‘আবরার ফাহাদ’ এককভাবে রিলিজ করার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাঁর বীর শহীদদের নিয়ে লেখা ও সুরের গানের প্রকাশনা পর্ব। এরপর সব গান একত্র করে অ্যালবাম বা প্লে-লিস্ট আকারে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ আর দেশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তাঁর এবারের আয়োজন। নতুন এই গানগুলো দীর্ঘদিন সংগীতপ্রেমীদের মনে অনুরণন তুলে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রিন্স মাহমুদ।
এদিকে একক গান ও অ্যালবাম আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও সিনেমার জন্য কোনো গান তৈরি করছেন না প্রিন্স মাহমুদ। বেশ কিছুদিন আগে সিনেমার জন্য আর গান তৈরি করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘এর মধ্যে বেশ কিছু সিনেমার কাজ ফিরিয়ে দিয়েছি, যা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন না। সিনেমায় আসলে আমার নতুন কিছু দেওয়ার নেই। যিনি যা-ই বলুন, সিনেমার গান নায়ক-পরিচালকের গান হয়; আমার গান হয় না। অকারণ ক্রেডিট নেওয়ার কোনো মানে হয় না। পুরোনো দিনের সুরকারদের জন্য হয়তো ঠিক ছিল, কিন্তু এখন নয়। ভুল বুঝবেন না। আসলে সিনেমার কাজ এনজয় করছি না। প্রতিটি গান ঠিকঠাক করতে হবে নিজ তাগিদেই; কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না– এটি এ মুহূর্তে একটি মানসিক চাপ। নিজ খেয়ালে কাজ করা চিরকালের অভ্যাস। আমার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অনুপস্থিতিও ছিল না। তারপরও। তবে সিনেমার গান করতে গিয়ে সম্মান পেয়েছি– এটি বলতেই হবে। যোগাযোগ একদম বন্ধ রাখার পরও সর্বোচ্চ প্রচার পেয়েছি। অন্য কারও ক্ষেত্রে এমন ঘটেছে কিনা জানা নেই। এটিও চাপ। আপন আলোয় ভাবছি। রিগ্রেট নেই। যা ছেড়ে আসি, ছেড়েই আসি। যাই হোক, অডিওর গানে থাকব; যে গান আমার গান হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রিন্স মাহমুদ সর্বশেষ ‘জংলি’ সিনেমায় সুরকার হিসেবে কাজ করেছেন। এই সিনেমায় তাঁর সুরে ‘জনম জনম’, ‘মায়াপাখি’, ‘বন্ধু গো শোনো’ ‘যদি আলো আসত’ গানগুলো অসংখ্য শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছে।
পড়ুন: জন্মদিনের আবহে মুগ্ধতা ছড়ালেন মিম
দেখুন: এবার ত্রিমুখী ভূমিকায় আবেদনময়ী অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র
ইম/


