ফিচার

শিরোপা জিতলো ইংল্যান্ড, মন জিতেছে নিউজিল্যান্ড

রাহিদ রনি

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা ম্যাচ, নির্দ্বিধায় মেনে নেয়া লোকের সংখ্যা একশো কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সেরা ফাইনাল ম্যাচ তো বটেই, এই প্রশ্নে ভোটাভুটি অনর্থক হয়ে পড়বে। এমন গা শিউড়ে ওঠা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ এক জীবনে কি দেখেছে কেউ!

 

স্বপ্ন পূরণ কখনো নির্ভেজাল হয় না, তাই হয়তো বিতর্কের ডালপালা- চারা থেকে বৃক্ষে রূপান্তর হয়েছে। চাঁদেরও কলঙ্ক আছে, যার সৌন্দর্য্য নিয়ে কাব্য আর কবিতায় মূর্ছা যায় জগতের সকল কবি-সাহিত্যিক। তাই বিতর্ক সুন্দরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

ওভার থ্রো তে ছয় রান কেন দেয়া হল? ফাইনালের মহাযজ্ঞে আম্পায়াররা কেন ভুল সিদ্ধান্তে ডুবে গেলো? বড় ম্যাচ বলেই কি তালগোল পাকিয়ে গেছে সব!

 

 

প্রশ্ন উড়িয়ে দিলে বাকিটা অপূর্ব। আজ যে পত্রিকা বা টেলিভিশন বিতর্ক নিয়ে লিখছে বা বলছে, তাঁরাও সেদিন সেটাকে বৈধ মেনে উপভোগ করেছে ফাইনাল ম্যাচ। এটাই প্রকৃতি, পরক্ষণে বোঝা যায় সব। নয়তো কি আর সাধে এমন প্রবাদ আছে বাংলায়। চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে।

 

ক্রিকেটের জনক শেষমেশ জিতলো বিশ্বকাপের প্রথম ট্রফি। ফুটবলে এই কীর্তি ইংলিশ বাবুরা করেছে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে। ক্রিকেট ও ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ের এমন বিরল রেকর্ড নেই আর কোনও দেশের দখলে। নিকট ভবিষৎতে হবে সেটাও অসম্ভবের গল্প। তাই আপাতত উদযাপনটা বরাদ্দ থাকুক ইংল্যান্ডের।

 

নিউজিল্যান্ড, এক অভাগা জাতি। তীরে এসে তরী না ডুবিয়ে মাটিতে নেমেও পিছলে গেছে পা। এ তো দুর্ভাগ্যের লক্ষণ, তা নয়তো কি? সম্ভব সবই করে দেখিয়েছে কিউই পাখির দেশ। টানা দুইবার ফাইনালে এসেও হলো না শিরোপা জয়। সাফল্যের রং কি তাহলে শিরোপা দিয়েই বিচার হয়!

 

বিতর্ক থাকতে পারে, তবে কোটি ক্রিকেট প্রেমীর ভালবাসা অর্জন করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। কেন উইলিয়ামসনের লড়াই আর চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তা, রোমান যোদ্ধা গ্ল্যাডিয়েটরকে মনে করিয়ে দেয়। বুক চিতিয়ে একাই দলকে টেনে তুলেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। শুধু পারলেন না কনফেত্তি আর শ্যাম্পেনে ভিজতে।

 

তা না হোক, সকলের মন জেতাটাও কম সাফল্য নয়। নাক উঁচু ইংল্যান্ডও স্যালুট দিয়েছে লড়াকু মানসিকতার নিউজিল্যান্ডকে।

 

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

LIVE
Play
ছুটিতে ওবামা যে বইগুলো পড়বেন
বাণিজ্যযুদ্ধের লাভ-ক্ষতি
৭০ বছরের পুরোনো ভূতুড়ে ছবির রহস্য!
উসাইন বোল্টের গতির তুলনা!