ফিচার , , , , ,

শীত আসছে! সেরে নিন প্রস্তুতি

জান্নাতুল কলি

সকালটা বেশ স্নিগ্ধ। দুপুরে একটু গরম অনুভূত হলেও রাতের শীতল পরিবেশ আর ভোরের কুয়াশা বলে দিচ্ছে শীত বেশি দূরে নেই। কবি ভাস্কর চক্রবর্তীর মতো বলার প্রয়োজন পড়বেনা ‘শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা…..’

বাতাসে শীতের স্পর্শ। কুয়াশার আঁচল সরিয়ে শিশিরবিন্দু ভোরের নরম রোদে মুক্তো দানার মতো দ্যুতি ছড়াতে শুরু করেছে ।

যারা ভোরে হাঁটতে বের হন বা বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যায় তারা বেশ ভালোই টের পাচ্ছেন শীতের আগমনী বার্তা। অনেকেই এখন গায়ে চাপিয়ে নিচ্ছেন হালকা গরম কাপড়। কেউ কেউ বছর শেষে কোথায় বেড়াতে যাবেন সেই পরিকল্পনাও করে ফেলছেন। কিন্তু সেসবের আগে মনে করিয়ে দেই কিছু প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির। এই শীতের সময়ে সুস্থতা, ফ্যাশন, রূপচর্চা, সবকিছুতেই দরকার একটু বাড়তি সতর্কতা।

আলমারিতে রাখা গরম কাপড়গুলো বের করে ফেলার সময় হয়ে গেছে। সকালের রোদে মেলে দিতে পারেন শীতের কাপড়গুলো। এতে কাপড়ের গুমোট গন্ধ দূর হয়ে যাবে। আর ছোট সোনামনিদের কাপড়গুলো চাইলে আরেকবার ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। অনেক দিন ধরে তুলে রাখা শাল ব্যবহার না করলে হলদেটে দাগ পড়ে যায়। এমন হলে শালটি ড্রাইওয়াশ করিয়ে নিতে হবে। উল বা ফ্লানেলের যে কোনো কাপড় ব্যবহারের আগে ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।

ছেলেদের কোট, ব্লেজার ব্যবহারের আগে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করে রোদে শুকাতে হবে। রোদ থেকে আনার পর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

খুব ভালো করে দেখে নিন ঘরের জানালার কোনো কাঁচ ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে কিনা? নষ্ট হয়ে থাকলে এখনই সারিয়ে নিন। ওয়াটার হিটার, গিজার, ইলেকট্রিক শাওয়ার, রুম হিটার এগুলো ঠিক আছে কিনা এখন থেকেই নজরে রাখতে হবে।

আর সব সময় যে জিনিসটা খেয়াল রাখতে হবে তা হলো পর্যাপ্ত আলো-বাতাস। শীতে উষ্ণতা পেতে ঘরে পর্যাপ্ত রোদ আসার ব্যবস্থা যেনো থাকে। এতে ঘর যেমন পরিচ্ছন্ন থাকবে তেমনি পরিবারের সবার ঠাণ্ডাজনিত অসুখ-বিসুখও কম হবে।

শীতে একটু অসচেতনতায় শিশুদের হতে পারে মারাত্মক ঠান্ডাজনিত সমস্যা। তাই খুব সতর্ক থাকুন। প্রয়োজনীয় ফাস্ট এইড সঙ্গে রাখুন।

শীতে গোসলের সময় অনেকেই গরম পানি ব্যবহার করেন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।

এই সময়ে ত্বক আর্দ্রতা হারায় এবং ফাটতে শুরু করে। তাই দিনে কয়েকবার ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না। ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত খাবার বেশি করে খাবেন। প্রয়োজনীয় প্রসাধনী এখনই কিনে ফেলতে পারেন। তাহলে দিনের অনেকটা সময় থাকা যাবে প্রাণবন্ত আর ঝলমলে।

এই সময় চুলে প্রচুর খুশকি হয়। ফলে ক্ষতি হয় চুলের। শীতকালে খুশকি প্রচণ্ড পরিমাণে বেড়ে যাওয়ার কারণ এই মৌসুমের শুষ্ক আবহাওয়া। তবে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে অবশ্যই খুশকি প্রতিরোধ করা সম্ভব। এরজন্য সপ্তাহে অন্তত দুই বার শ্যাম্পু ব্যবহার করা জরুরী। হেয়ার টনিক, নারিসিং ক্রীম ব্যবহার করতে পারলে ভালো। আর বাসা থেকে বের হবার সময় অবশ্যই চুল ঢেকে বের হবেন।

শীতে জুতার ফ্যাশনটাও কিন্তু পাল্টে যায়। তাই গত বছরের জুতা গুলো ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। আর নতুন জুতা কিনতে চাইলে এখনই উপযুক্ত সময়। কদিন পর শীতের প্রকোপের সাথে সাথে এসব জিনিসের দামও বাড়বে।

এসব প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সেরে শীতকে উপভোগ করার জন্য তাহলে তৈরি হয়ে যান।

আরেকটি বিষয় মনে করিয়ে দিতে চাই, পিঠা খাওয়ার সবচেয়ে ভাল সময় শীতকাল। তাই নতুন চাল থেকে শুরু করে নারকেল, গুড় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাজার থেকে নিয়ে আসতে ভুলবেন না।

LIVE
বাংলাদেশে ২০১৯ সালের সেরা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
বুনোপ্রাণীর দেশ গাম্বিয়া
অভিবাসন প্রত্যাশীদের নিয়ে অভিনব প্রতারণা
কলার দাম ১ কোটি ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা!