ফিচার , ,

সুরের রাজা কিশোর কুমার

জান্নাতুল কলি

কিছু মানুষের কখনো মৃত্যু হয় না। পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পরেও তাঁরা যুগ যুগ বেঁচে থাকেন নিজেদের কাজ দিয়ে। ১৯২৯ সালের আজকের এই দিনে জন্মেছিলেন এমন একজন কিংবদন্তি যার কণ্ঠের জাদুতে তিনি হয়ে উঠেন অনন্য। বলছি কিশোর কুমারের কথা আমাদের সবার কিশোর দা।

 

বাংলা এবং হিন্দি- দুই ভাষার চলচ্চিত্রেই সমানভাবে দাপট নিয়ে চলেছেন তিনি। আজও তার গান সমান জনপ্রিয়। ছোট থেকে বড় সবাই তার গানে মুগ্ধ। কি যেন একটা আছে তার কণ্ঠে, সব শ্রোতাকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। সবাইকে বাধ্য করে তার গান শুনতে। মানুষের স্মৃতিতে, মনে, ভালো লাগায়, খারাপ লাগায় চিরসঙ্গী হয়ে আজও আছেন কিশোর কুমার।

 

১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়াতে এক বাঙালি পরিবারে কিশোর কুমারের জন্ম। তার আসল নাম আভাস কুমার গাঙ্গুলি। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি ছিলেন একজন আইনজীবী। মা গৌরী দেবী ছিলেন ধনাঢ্য পরিবারের মেয়ে। কৈশোরে শিল্পাঙ্গনের সঙ্গে কিশোর কুমারের জানাশোনা। তার বড় ভাই অশোক কুমার তখন বলিউডের বড় অভিনেতা। চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট কিশোর কুমারের স্বপ্ন ছিল ভাইয়ের মতো নায়ক হওয়া। বড় ভাই অশোকের সাফল্য তাকে বেশ প্রভাবিত করেছিল। তবে ভাগ্যচক্রে অভিনেতা না হয়ে, অমর শিল্পী হয়েছেন কিশোর। যদিও অভিনয়টাও কিছু করেছেন তিনি।

 

 

বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, অসমিয়া-সহ মোট ২০০০-এরও বেশি গান গেয়েছেন কিশোর কুমার।  ৮ বার পেয়েছেন ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড। তাঁর গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, উত্তম কুমার, রাজেশ খান্না, সঞ্জীব কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে। শচীন দেববর্মন, রাহুল দেববর্মন, গুলজার, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বহু সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এবং শুধু গানই নয় তিনি ছিলেন একাধারে সংগীতশিল্পী , অভিনেতা , চিত্র পরিচালক ও চিত্র নাট্যকার।

 

কিংবদন্তি এই শিল্পীর জীবনের চার সংখ্যা নিয়ে অদ্ভুত কাহানী রয়েছে। কিশোর কুমার ৪ আগস্ট ৪ টায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জীবনে বিয়ে করেছিলেন ৪ টি।  শুধু তাই নয় তিনি ছিলেন ৪ সন্তানের পিতা। অভিনয় জগতে পা রাখার পর তিনি ৪ টি বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

 

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে সর্বাধিক সফল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক এই গায়ক ১৯৮৭ সালে ১৩ অক্টোবর ৫৮ বছর বয়সে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।

 

এখনো প্রণয়ের প্রথম ধাপে অথবা প্রেমে ব্যর্থতায় কিশোর কুমারের গান আমাদের অনেকের অনুভূতিকে আরও গাঢ় করে। কিশোর কুমার তার সুরের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন আজীবন। তাইতো নিজের গানেই তিনি বলে গিয়েছিলেন

 

‘‘চালতে চালতে মেরে ইয়ে গীত ইয়াদ রাখনা, কাভি আলভিদা না কেহনা…”

লেখক: গণমাধ্যম কর্মী

LIVE
Play
ছুটিতে ওবামা যে বইগুলো পড়বেন
বাণিজ্যযুদ্ধের লাভ-ক্ষতি
৭০ বছরের পুরোনো ভূতুড়ে ছবির রহস্য!
উসাইন বোল্টের গতির তুলনা!