ফিচার

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়

জীবনে কখনো হেঁচকি হয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটি একটি কষ্টকর, বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। খাওয়ার সময়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো কাজের মধ্যে বা অবসর কাটানোর সময় হঠাৎ হেঁচকি শুরু হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিপাকতন্ত্রের গোলমালেরই হেঁচকির কারণ।

কেন হয় এই হেঁচকি, পরিত্রাণের উপায় কী?

মানুষের ফুসফুসকে পেট থেকে আলাদা করেছে একটি মাংসপেশীর স্তর। যার নাম ডায়াফ্রাম বা বক্ষচ্ছদা। এটি হঠাৎ সংকোচনের ফলেই হেঁচকি তৈরি হয়।

শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই ডায়াফ্রামের। প্রতিবার সংকোচনের ফলে ভোকাল কর্ড সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে হিক শব্দ তৈরি হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়।

চেতনানাশক, উত্তেজনাবর্ধক, পার্কিনসন্স রোগ বা কেমোথেরাপির বিভিন্ন ধরণের ওষুধ নেয়ার ফলেও হেঁচকি তৈরি হতে পারে।

হেঁচকি ওঠাটা খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা এবং সাধারণত মিনিটখানেকের মধ্যেই তা স্বাভাবিক হয়ে যায়। 

হেঁচকি থামানোর উপায়

অধিকাংশ হেঁচকি আপনাতেই সেরে যায়, কোনো চিকিৎসা লাগে না। তবে হেঁচকি দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হেঁচকি থামানোর সহজ কিছু উপায়-

১৷ জিহ্বা টেনে ধরে রাখুন : শুনতে অদ্ভুত শোনালেও এটা কিন্তু বেশ কার্যকর।

২। পানি পান বা গার্গল : বড় এক গ্লাস পানি পান অথবা গার্গল করার চেষ্টা করতে হবে।

৩। নিঃশ্বাস আটকে রাখা : বড় একটি নিঃশ্বাস নিন, নাক চেপে যতক্ষণ সম্ভব আটকে রাখার চেষ্টা করুন।

৪। নিজেকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা : নিজেকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা ভয় পেলে তা নার্ভগুলোকেও চমকে ওঠে। হেঁচকিও থেমে যায়।

৫। একটি কাগজের ব্যাগে শ্বাস প্রশ্বাস নিন : একটি কাগজের ব্যাগ নিন আর তাতে মুখ রেখে শ্বাস প্রশ্বাস নিন। এতে রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে হেঁচকি থামাতে কাজ করে।

৬। শেষ উপায় একটি অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট : এতকিছু করার পরেও যদি হেঁচকি না থামতে চায় তবে শেষ উপায় একটি অ্যান্টাসিড ট্যাবলেট। এতে আছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম, যা নার্ভগুলোকে শান্ত করে, ফলে হেঁচকি থেমে আসে আপনি আপনিই!

লিশা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LIVE

হেঁচকি ওঠার কারণ ও কমানোর উপায়
মশা তাড়াতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা যায়
গ্রিন টির ভালো-মন্দ
পাহাড়ের ভাষা, সমতলের ভাষা