কলাম

বাঙালির গ্যাস সংকট

মাসুদুল হক

একবিংশ শতকের বাঙালির মূল সমস্যাগুলোর একটি ‘গ্যাস’। বাসা-বাড়ির গ্যাস না। তার পেটের মধ্যে যে গ্যাস হয় সেই গ্যাস নিয়া বাঙালির চিন্তার শেষ নাই। বাংলাদেশের যে কোন ফার্মাসীর সামনে দাঁড়ায়া কিছুক্ষণ কান পাতলেই জানতে পারবেন, এই গ্যাস সংকট এবং তার প্রভাব সম্পর্কিত নানা তথ্য।

 

এই গ্যাসের প্রভাবে কারো তিনদিন ধরে হচ্ছেই না। কারো আবার এই গ্যাসের চাপে সেই যে শুরু হইসে আর শেষ হচ্ছে না। অনেকের পেটে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস জমে আছে। টোকা দিলে তবলার মতো শব্দ হয়। কেউ আবার গ্যাসের প্রভাবে যা খাচ্ছে তা ধরে রাখতে পারছে না। ফলে শরীরে বল পাচ্ছে না। অনেকের হচ্ছে কিন্তু গ্যাসের কারণে পুরো ক্লিয়ার হচ্ছে না। অনেকের সবই ঠিক আছে কিন্তু রংটা জানি কেমন।

 

ভাষা বিজ্ঞানীরা উপযুক্ত শব্দ তৈরি করতে না পারায় রোগীদের নিজের বাহ্যটা কেমন তা বুঝাতে নানারকম শব্দ এবং রূপক তৈরি করতে হয়। যেমন, ‘বিজল-বিজল’, ‘ফ্যাকাসে’,‘চাল ধোয়া পানির মতো’- এইসব শব্দ এবং রূপকের জন্মও ঐ গ্যাসের কারণে।

 

অনেক অফিসে বসের আচার-আচরণ দেখে সাবঅর্ডিনেটরা বুঝতে পারে বসের পেটে গ্যাস আছে কি নাই। যদি বস হাসিখুশি থাকে তবে সবাই বুঝে, বসের আজকে সকালটা ভালভাবে শুরু হয়েছে। যদি বস খারাপ আচরণ করে তবে বুঝে নেয়, বসের পেটে গ্যাস হয়েছে।

 

বাঙালি পেটের গ্যাস নিয়া সবচেয়ে বড় গ্যাস সংকটে পড়ে রমজান মাসে।রমজান মাসে প্রত্যেকের পেট এক একটা খনিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে রমজানের শেষ দশদিনে তারাবীর নামাজে লোকসমাগম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

 

চিকিৎসকরা বা নৃবিজ্ঞানীরা কি বলবেন জানি না তবে আমার মনে হয় এই গ্যাস সংকটের মূল কারণ আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি।আমাদের পূর্বপুরুষরা দীর্ঘদিন অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার ফলে জেনেটিক্যালি আমাদের শরীর যে পরিমান খাবার এবজর্ব (শোষণ) করতে সক্ষম আমরা অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে তার চেয়ে বেশি খাবার খাচ্ছি। জিডিপি গ্রোথের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের শরীর প্রস্তুত হয়নি। আবার এত বড় একটা জাতীয় সমস্যা কিন্তু বাঙালি জাতি এই সমস্যার সমাধান ফার্মাসীর সেলসমান আর বিভিন্ন লতা-পাতার নির্যাস দিয়ে বানানো ঔষধের হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে বসে আছে।

 

বাসা-বাড়ি-কলকারখানায় গ্যাস সংকট দূর করার আগে বাঙালির পেটে যে অনবরত গ্যাস তৈরি হচ্ছে সেই সংকট মোকাবিলা করা জরুরী।এই গ্যাস সংকট এত ভয়াবহ যে এর মোকাবিলা করতে বিত্তশালীরা ব্যাংকক যাচ্ছে, গরীবেরা তিনটা নারিকেল আর এক গাছি কলা নিয়া শহরে চলে আসছে।

 

এই গ্যাসের সংকট সমাধান করলে বাঙালি আরও প্রাণবন্ত জীবন পেতে পারে। আমি ভাবি, পেটে গ্যাস নিয়া এই বিশ্বকাপে বাঙালি যা করে দেখালো, যদি তার পেটে গ্যাস না থাকতো বাঙালি না জানি কি করে দেখাইতা?!!!

*যাবতীয় তথ্য ও মন্তব্যের জন্য লেখক দায়ী
///মাও
LIVE
Play
সেন্ট মার্টিন’স-এ পর্যটক নিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
একনজরে মুহাম্মাদ সা.
আমি এখনো আপনার গান শুনছি
ঢাকার ইতিহাস: জীবনদায়ী মিটফোর্ড হাসপাতাল